সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

৫০০ শয্যা হাসপাতাল ও ১১ স্তরের স্টেডিয়াম করা হবে, রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই-প্রধানমন্ত্রী

ডি এইচ দিলসান ও রেজাউল করিম রুবেল:: রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই। ব্যাংকগুলোতেও টাকা আছে পর্যাপ্ত, আমদানি ও রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে।’ তারপরেও আমরা সচেতন হবো, কারন সারাবিশ্বে মন্দা চলছে, আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে, কারো এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখবো না, যে যা পারি তাই লাগিয়ে উৎপাদন করবো, তাহলে এ দেশে কখনো খাদ্য সংকট হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যশোরে জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বিএনপি জামায়াত কী দিয়েছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিয়েছে অস্ত্র, দিয়েছে খুন। এই যশোরে সাংবাদিক শামসুর রহমান ও সাইফুল আলম মুকুলকে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় মঞ্জুরুল ইমাম, মানিক শাহ, বালু, সাংবাদিকদের একে একে হত্যা করা হয়েছে। শুধু রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপিতো আর কিছু দিতে পারেনি দেশের মানুষকে। নিজেরা লুটপাট করেছে। নিজেরা মানুষের অর্থ পাচার করেছে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে নিজেদের উদরপূর্তি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ অনেকে রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন। বাংলাদেশের রিজার্ভের টাকা কোথাও যায়নি। রিজার্ভ মানুষের কাজে লেগেছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতে আজকে অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা অর্থনীতিকে এখনো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন এই ঐতিহাসিক যশোর জেলা স্টেডিয়ামে আমার বাবা মিটিং করেছে, আমিও করছি, এই মাটিতে আমার নানা ঘুমিয়ে আছে, আমি এই মাটিতে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ করে দিবো। আর তার জন্য ইতমধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতই সেখানে হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হবে। আর স্টেডিয়ামের অবস্থা খুব খারাপ। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এটাকে আমরা ১১ স্তর বিশিষ্ঠ্য আধুনিক স্টেডিয়াম করে দেবো। তবে আমাকে কথা দিতে হবে, বিশেষ করে যুবক ও তরুণদের। তোমরা খেলাধুলা করবে, লেখাপড়া করবে। কোনোভাবেই মাদকের সাথে জড়ানো যাবে না। জঙ্গিবাদের সাথে যুক্ত হওয়া যাবে না। আমরা নানা জহিরুল হক এই যশোরে চাকরি করতেন। আমার মার বয়স যখন ৩ বছর, তখন তিনি মারা যান। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় নানাকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া যায়নি। এজন্য তাকে যশোরে দাফন করা হয়। যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। তার নামে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করে দিচ্ছি। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকের কর্মস্থান হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আমরা ইতমধ্যে যশোর বিমানবন্দর উন্নয়নে হাত দিয়েছি, যশোর বিমানবন্দরে আধুনিক মানের করা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘অভয়নগরে ইপিজেট করে দিচ্ছি। সেখানে ৫০০ একর জমি নেয়া হয়েছে। সেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। যুব সমাজের জন্য আমরা অনেক কিছু করেছি। শুধু চাকরি খুজলে হবে না। কর্মস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি। জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়া যাবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। কেউ বেকার থাকবে না। কেউ কিছু না কিছু করতে পারবে। আমরা সেটা করে দিয়েছি। যশোর থেকে ঢাকায় যাওয়ার সব সড়ক মহাসড়ক হবে। ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর আসার সরাসরি রেল লাইন হবে। যাতায়াত সহজ হবে। বাণিজ্যে যাতে সুবিধা হয়, এজন্য আমরা সবকিছু করে দিচ্ছি।

রিজার্ভ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতে মন্দা। তবে আমরা সবকিছু ঠিক রেখেছি। অনেকে বলছে রিজার্ভ নেই। ব্যাংকে টাকা নেই। আমি গতকালও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছের কোনো সংকট নেই। বিদেশী বিনিয়োগ আসছে। কোনো সমস্যা নেই। বাংক থেকে টাকা তুলে বাড়িতে রাখলে হবে না। বাড়িতে টাকা থাকলে তা চুরি হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘রির্জাভ কোথায় যায়নি। জনগণের জন্য ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধ চলছে। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। ৩০০ টাকার গম এখন ৬০০ টাকা হয়েছে। তাও আমরা মানুষের জন্য নিয়ে এসেছি। পৃথিবীর সব দেশে পয়সা দিয়ে কিনে টিকা নিতে হয়েছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশে টাকা দিয়ে কিনে টিকা নিতে হয়েছে। আমরা আমাদের দেশের মানুষকে বিনামূল্যে করোনা টিকা দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যশোরের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওয়াদা করেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব। যশোরে আইটি পার্ক করেছি। যেখানে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ মানুষের কর্মস্থান হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ আসছে। বেনাপোল স্থলবন্দরে এক সময় ট্রাক রাখা যেতো না। আমরা ডিজিটাল করে দিয়েছি। অনেক উন্নত করেছি। পদ্মাসেতু করেছি। মধুমতি সেতু করেছি। পদ্মাসেতু হওয়াতে কত সহজে আপনারা ঢাকায় যেতে পারেন। সবজি সহজে ঢাকায় যেতে পারে। তিনি বলেন, আমি যশোর চিফ জুডিশিয়াল আদালত করেছি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করেছি, কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কপোতাক্ষ নদের ৮২ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে ভদ্রা নদি ড্রেজিং করা হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেউ ভূমিহীন থাকবে না। কিন্তু তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। আমরা তার কাজ করছি। আমরা বিনা পয়সায় ৩৫ লাখ ঠিকানাহীন মানুষকে ঘর করে দিয়েছি। তাদের জীবন পাল্টে যাচ্ছে। জাতির পিতার আকঙ্খা আমরা পূরণ করছি।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপির পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাগেরহাট-১, আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সামছুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, ইকবাল হোসেন অপু, আনিসুর রহমান, মেরিনা জাহান কবিতা ও পারভিন জামান কল্পনা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution