শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ন

স্কোয়াশ চাষ করে আইনজীবীর সাফল্য

কৃষি প্রতিবেদন:: আলমগীর হোসেন পেশায় একজন আইনজীবী হলেও শখের বসত এই প্রথম বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যরাও এ সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের মইষাকান্দি গ্রামে তার বাড়ি। নরসিংদী জজ কোর্টের একজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)।

ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রতিবেদন দেখে স্কোয়াশ চাষে উৎসাহিত হন এ আইনজীবী। পরে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তায় এই বিদেশি সবজি চাষ করেন তিনি। এতে ভালো ফলন পেয়ে উৎসাহ হয়ে অন্যদেরও পথ দেখাচ্ছেন তিনি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্কোয়াশ মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোর শীতকালীন সবজি। এটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় সবজি হিসেবে বিদেশিদের কাছে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। বেলে দো-আঁশ মাটিতে স্কোয়াশ চাষ ভালো হয়। বর্তমানে দেশে স্কোয়াশ একটি উচ্চমূল্যের ফসল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সবজির চাষাবাদ ক্রমানুসারে বাড়ছে। প্রতিটি স্কোয়াশ গাছ রোপণের পর থেকে প্রায় আড়াই মাসে ১৪ থেকে ১৫টির মতো ফল ধরে। এটি দেখেতে অনেকটা আমাদের দেশের শসা আকৃতির। কিন্তু শসার মতো লম্বা হলেও এর রঙ জালি কুমড়োর মতো সবুজ। উচ্চফলনশীল জাতের এ সবজি ভাজি, মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্নার উপযোগী, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এছাড়া এটি সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়।

এই সবজির আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়ায়। স্কোয়াশ আবাদের সুবিধা অল্প সময়ে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ফসল উৎপাদন করা যায়। তাছাড়া এক বিঘা জমিতে যে পরিমাণ কুমড়া লাগানো যায়, তার চেয়ে দ্বিগুণ স্কোয়াশ লাগানো সম্ভব। পূর্ণবয়স্ক একটি স্কোয়াশ গাছ অল্প জায়গা দখল করে। স্কোয়াশের একেকটি গাছের গোড়ায় ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত ফল বের হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয় এটি। স্কোয়াশ মনোহরদী উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ শুরু হলেও বাজারে এর চাহিদা ও দাম ভালো রয়েছে।

চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘গতানুগতিক কৃষি থেকে কৃষকদের দৃষ্টি পরিবর্তন করে আধুনিক এবং লাভজনক কৃষিতে প্রবর্তন করার জন্য স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হই। ‘বদলে যাও বদলে দাও’ স্লোগানে সু-দৃষ্টি অ্যাগ্রো নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে ৪০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশ রোপণ করি। এই সবজির ফলন অনেক ভালো হয়। বীজ বপনের ৪৫ থেকে ৫০ দিনেই বাজারজাত করা যায়।’’

‘প্রায় এক ফুট লম্বা একেকটি স্কোয়াশ দুই থেকে তিন কেজি ওজনের হয়। প্রতিটি স্কোয়াশের ওজন প্রায় এক কেজি হতেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু করি। বর্তমান বাজারে স্কোয়াশ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ শতাংশ জমিতে সবজির পরিচর্যা, বীজ ও সার ক্রয়সহ এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় লাভ অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। বাজার ভালো থাকলে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আগামীতে এই সবজি চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার ইচ্ছা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার ক্ষেতটি বিষমুক্ত। আধুনিক মালচিং পদ্ধতি চাষাবাদ করায় পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি। এলাকায় এই সবজি নতুন হওয়ায় প্রতিদিন দেখতে আসছেন অনেকেই। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন স্কোয়াশ চাষের। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন এ সবজি চাষের।’

মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আয়েশা আক্তার বলেন, ‘স্কোয়াশ সবজি হিসেবে খুবই ভালো এবং ফলনও খুব ভালো হয়। অল্প জায়গায় ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভজনক একটি সবজি। স্কোয়াশ চাষ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।’

পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্কোয়াশ সাধারণ কুমড়ার মতো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ কুমড়ার চেয়ে অনেক বেশি। দেশের প্রচলিত কোনো সবজির এমন উৎপাদন ক্ষমতা নেই। স্কোয়াশ শরীরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও বিটা ক্যারোটিন সরবরাহ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হৃদরোগীদের জন্য খুবই উপকারী।’ তাই এ স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution