বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জ ও চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজন খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: দেশের দুই জেলায় পৃথক তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও নয়জন। এসব ঘটনায় মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ ও চট্টগ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জে মসজিদের টাকা তোলা ও ঈদগাহ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে দুই খুন:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ ও সলঙ্গায় মসজিদে ইমামের টাকা তোলা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত দুই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শাহজাদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ছয়জন।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে খোরশেদ আলম (৫৫) নামে সলঙ্গার এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি সলঙ্গা থানাধীন চক মনোহরপুর গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিপ্লব হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে।

এ দুটি ঘটনায় আটকরা হলেন, সলঙ্গা থানার চক মনোহরপুর গ্রামের ইউসুফ আলী (৫৪) ও শাহজাদপুরের হরিরামপুর গ্রামের আল-আমিন (৩৪), আনোয়ার হোসেন (৪৫), মোতাহারুল হক (৬৫), হাবিবুল হক হারুন (৩৫), আব্দুস সাত্তার খান (৪৫) এবং সাকিল হোসেন সরকার (২৩)।

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে চক মনোহরপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ইউসুফ আলীর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ওয়াজেদ আলী সরকারের সাথে তর্ক-বিতর্ক হয় খোরশেদ আলমের। এ নিয়ে উত্তেজনার এক পর্যায়ে মসজিদের বাইরে এসে ইউসুফ আলী ও তার লোকজন খোরশেদ আলমের উপর হামলা ও মারপিট চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার সকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া শজিমেকে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে শাহজাদপুরের হরিরামপুর গ্রামবাসী জানান, শুক্রবার বিকালে ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠন নিয়ে লুৎফর রহমান ও আকমল গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৭ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিপ্লব হোসেনকে আশংকাজনক অবস্থায় রাতেই ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিপ্লব হোসেন। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মাস্টার, তোরাব আলী, আব্দুল মতিন ও সাকিল হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, ঈদগাহ মাঠের কমিটি নিয়ে দু’ক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিপ্লব হোসেন মারা গেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে​ ছাত্রলীগ নেতা খুন:

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছুরিকাঘাতে আসকার বিন তারেক (১৮) নামে এক নেতা খুন হয়েছেন। শুক্রবার রাতে নগরের কোতোয়ালী থানার চেরাগীপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসকার চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার এনায়েত বাজার এলাকার এসএম তারেকের ছেলে। তিনি জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাব্বির সাদিক ও সদস্য সৈকত দাশের অনুসারীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার ইফতারের পর নগরের আন্দরকিল্লা মোড়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

রাতে চেরাগী পাহাড় মোড়ে উভয়পক্ষ জড়ো হয়ে আবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় আসকার বিন তারেককে ছুরিকাঘাত করা হয়। সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। সাব্বির সাদিকের অনুসারী ছিলেন নিহত তারেক।

পটিয়ায় ইউপি নির্বাচনের বিরোধে খুন:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোহাম্মদ সোহেল (৩৫) নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিনজন। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত সোহেল উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই এবং দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের ভাগিনা। তার বাবার নাম মরহুম হাজী এজহার মিয়া।

আহতরা হলেন, একই এলাকার সাজ্জাদ (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও জয়নাল আবেদীন(৩৪)। আহতদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) তারাবির নামাজের পরে রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় সোহেলের বাড়ির পাশে বুধপুরা বাজারে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সোহেলের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার জের ধরে তারাবির নামাজের পরেই এলাকার বেশ কয়েকজন মিলে এ হামলা ও ছুরিকাঘাত করে। এতে সোহেল ছাড়াও আরও তিন ছুরিকাঘাতে আহত হন। এ সময় আহতদের চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে সোহেল মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম মজুমদার জানান, সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিরোধের জের ধরে এ হামলা ও ছুরিকাঘাত ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution