সোমবার, ১৪ Jun ২০২১, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ চালু ছিল

বশির আহম্মদ, বান্দরবান প্রতিনিধি:: মহামারির মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছে পার্বত্য বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। গত দেড় বছর ধরে করোনা মহামারি মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেই ওই প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি খোলা রেখেই চলছে একাডেমিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এই জন্য দীর্ঘ এই সময়ে মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাব দেহিতার মুখোমুখি হতে হয়নি এই প্রতিষ্ঠানটিকে। সেজন্য কৌশলে ছলনার আশ্রয় নিতে হয়েছে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপনের পর পরই তড়িগড়ি করে প্রায় আড়াই শিক্ষার্থীকে দুস্থ, দরিদ্র ও হতদরিদ্র এবং প্রতিষ্ঠানটিকে এতিমখানা ঘোষণায় আবাসিক কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি নেওয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে।

তবে এর মধ্যেই গত ৭ জুন র্মমান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিশু শ্রেয় মোস্তাফিজ (১১) এবং আব্দুল কাদের জিলানী (১২)। স্কুলের অদূরেই একটি খাল থেকে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনায় লামায় থানায় একটি মামলা করেন নিহত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। ওই মামলায় কোয়ান্টাম ফাউ-েশন কর্তৃপক্ষ, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যা- কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্কুলের আবাসিকের পরিচালকদেরকে আসামী করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরোপুরি আবাসিকে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে আড়াই শিক্ষার্থী রয়েছে। যার ৫৫ শতাংশ উপজাতি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি এবং ৪৫ শতাংশ দেশের উত্তর বঙ্গের মঙ্গা-পীড়িত এলাকা’সহ বিভিন্ন অঞ্চলের শিশু।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, দুস্থ্য, দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই এখানে ফ্রীতে পড়ালেখা করছে। এদের কারো মা নাই, আর কারো বাবা! আবার অনেকের বাবা-মা দু’জনই নাই এমনটাই দাবি কোয়ান্টামের এই পরিচালকের।
তিনি বলেন, দেশে করোনার মহামারির শুরুতে রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর পরই ওই শিশুদের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানটি খোলা রাখার চেষ্টা করি। সেসময় প্রথমে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্সা বোর্ডে যোগাযোগ করার পর তারা জানায়, এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়, শিক্ষা বোর্ডের হাতে নেই। পরে এতিমখানার আদৌলে আবাসিক কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করি এবং তা মিলেও যায়। সেই থেকেই এই কার্যক্রম এখনও চালু আছে।

কোয়ান্টাম’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই পরিচালকের ভাষ্য, গত ৭জুন ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ’র শিশুরা প্রতিদিনের ন্যায় এদিন সকালেও ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে পিটি ক্লাস শেষ করে। এরপর নাস্তা এবং পাঠ শেষে খেলা ধুলায় মেতে উঠে। ওদিন মুষুল ধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। আর তখন আবসিকের সাত/আট জন শিশু নতুন ক্যাম্পাসের জিমনেসিয়াম ভবনের পেছনে নালায় বাঁধদিয়ে পানি নিষ্কাষনে বসানো পাইপের মুখ ঠিক আছে কিনা দেখতে যায়। সেখান থেকে ফের ওই পাইপে পানি প্রবেশ পথ দেখতে গিয়ে সেখানে পাহাড়ির ঢলের সৃষ্টি ঘুর্ণিতে পরে প্রথমে একজন ভেতরে ঢুকে যায়। তাকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করতেই পরে আরেকজন সেই ঘুর্ণিতে পড়ে। এবার তাকে তুলতে গিয়ে আবাসিকের এক কর্মকর্তা সেই ঘুর্ণির মধ্যে পড়তেই তার একটি পা ওই পাইপে মধ্যে ঢুকে যায়। পরে সেখানে উপস্থিত অন্যরা তাকে কোনোভাবে তুলে আনলেও ওই দুই শিশুকে তোলা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার কিছুক্ষর পর ওই পাইপের শেষ প্রান্তে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ শ্রেণির দু’শিশু শিক্ষার্থী শ্রেয় মোস্তাফিজুর রহমান এবং আব্দুল কাদের জিলানী এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এদের একজন ঠাকুরগাঁও এবং অপজন চাপাই-নবাবগঞ্জ থেকে পড়ালেখায় এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়।

যদিও পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওইদিন বেলা সাড়ে এটার সময় কোয়ান্টামের অদূরের ঢেঁকিছড়া খালে ভাসমান অবস্থায় এই দু’শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশকে হস্তান্তর করে।

করোনার এই মহামারির নিষিদ্ধ সময়ে ক্যাম্পাস কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, যেহেতু তার বললো এটা একটা আশ্রম, ঘোষণায় এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা।

আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের বলেন, নিষিদ্ধ এই সময়ে ক্যাম্পাস কার্যক্রম চালু রাখার কোনো প্রশ্নই আসে না। খবর নিয়ে দেখছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution