শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১০:১৬ অপরাহ্ন

লকডাউনে বিকল্প চ্যানেলে চলছে মোবাইল ফোন বিক্রি

বিজ্ঞান প্রযুক্তি ডেস্ক::

চলমান লকডাউনেও মোবাইল বিক্রি চালু রেখেছেন দেশে মোবাইল ফোনের উৎপাদক, আমদানিকারক ও ন্যাশনাল পার্টনাররা। গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম। কুরিয়ার সার্ভিসের সহায়তা না নিয়েও অনেকে সরাসরি পণ্য ডেলিভারি করছেন। বিক্রি একেবারে বন্ধ থাকার চেয়ে বিকল্প উপায়ে বিক্রি ধরে রাখতেই সচেষ্ট তারা। এতে প্রতিষ্ঠান চালানোর খরচ কিছুটা উঠে আসবে, এমনটাই আশা তাদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিক্রি একেবারে বন্ধ থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভাড়া, কর্মীর বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, ইউটিলিটি খরচের বিশাল একটা ধাক্কা এসে পড়ে। এই চাপ সামলাতে অনেক মোবাইল স্টোর বন্ধ করা, কর্মী ছাঁটাই ও অফিসের আকার ছোট করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। অনেকের ঋণ বাড়তে থাকে। আর এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই বিকল্প মাধ্যম খুঁজছেন অনেকে। বিভিন্ন ই-কমার্স প্লাটফর্মে ডিসকাউন্টে পণ্য দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব অনলাইন শপ ও হোম ডেলিভারির মাধ্যমে বিক্রি করে খরচ কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য, এতে করে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানির ওপর। এটা কীভাবে সম্ভব হবে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ ব্যবস্থায় মোবাইল উৎপাদক বা আমদানিকারকের কাছ থেকে সরাসরি মোবাইল কেনা যাচ্ছে। অরিজিনাল ডিভাইস পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকছে শতভাগ। অভিযোগ জানানোর থাকলেও সরাসরি বলা যায়। আবার ক্যাশ অন ডেলিভারির সুযোগও থাকছে।

জানা গেছে, লকডাউনে স্যামসাং মোবাইলসহ অনেকে তাদের পণ্য সরাসরি হোম ডেলিভারি দিচ্ছে। ফোনকল, ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্ডার নিচ্ছে। স্যামসাং পণ্যের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ফেয়ার গ্রুপের সূত্রে জানা গেছে, তাদের অনলাইন শপে বিক্রি বেড়েছে। অফলাইনে বিক্রিও ভালো। প্রতিষ্ঠানটিও নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেমে গ্রাহকের ঘরে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।

অনলাইনে বিক্রি ৫-১০ শতাংশ

বাংলাদেশে মটোরোলা মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল পার্টনার সেলেক্সট্রা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব আরাফাত জানান, লকডাউনে তাদের মোবাইল শপগুলো বন্ধ থাকলেও অনলাইনে বিক্রি অব্যাহত আছে। তাদের সেলেক্সট্রা শপের মাধ্যমে মটোরোলা মোবাইল ও লাইফস্টাইল পণ্য অর্ডার করলে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনও চার্জ ছাড়াই পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার গ্রাহদের জন্য যতদূর সম্ভব ফ্রি হোম ডেলিভারি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম রয়েছে। লকডাউনে সরাসরি গ্রাহকের ঠিকানায় অরিজিনাল মটোরোলা ডিভাইস পৌঁছে দিচ্ছি। ভালো সাড়াও পাচ্ছি।’

সিম্ফনিও অনলাইনে স্মার্টফোন হোম ডেলিভারির সুবিধা চালু করেছে। সিম্ফনি জানিয়েছে, হোম ডেলিভারি পেতে ৬০ টাকা ডেলিভারি চার্জ যুক্ত হবে। ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফোন ঘরে পৌঁছে যাবে।

দেশের ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অনলাইন শপ ই-প্লাজার মাধ‌্যমে মোবাইল ফোন বিক্রি হচ্ছে। ওয়ালটন প্লাজা থেকে নিজস্ব ব‌্যবস্থাপনায় দ্রুত ডেলিভারিও দেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্ডারের দিনই ডেলিভারি হচ্ছে। সর্বোচ্চ সময় লাগছে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা।

গ্যাজেটস বিক্রির অন্যতম প্রতিষ্ঠান গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরে আলম শিমু জানালেন, তাদের মূল ব্যবসা অফলাইনে। তবে করোনার সময়ে তারা অনলাইন শপও চালু রেখেছেন। সেখানে কিছু কিছু অর্ডার আসছে। গতবছর লকডাউনের সময় নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম চালু করেন। এবারও তা কাজে লাগাচ্ছেন। ফোনের মাধ্যমে বা সাইটে ফরমায়েশ এলে সেগুলো নিজস্ব ডেলিভারিম্যানের মাধ্যমে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দিচ্ছেন। ঢাকার বাইরের অর্ডার হলে কুরিয়ার সার্ভিসের সহায়তা নিচ্ছেন। তিনি জানান, অফলাইনে প্রতিদিন যে পরিমাণ বিক্রি হতো এখন হয় তার ৫-১০ শতাংশ। বিক্রি একেবারে বন্ধ থাকার চেয়ে বিকল্প চ্যানেলে কিছুটা চালু আছে, এটাই মন্দের ভালো।

দোকানের বাইরে ঝুলছে ব্যানার

জানা গেছে, বিক্রেতারা দোকানের সামনে ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছেন। সেখানে বলা হচ্ছে, কারও মোবাইল ফোন প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করতে বা পেইজে ইনবক্স করতে। স্যামসাংয়ের মোবাইল শপগুলোর বাইরেও এমন নম্বর দেওয়া আছে বলে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন শপে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হিট বেড়েছে। বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন), ডিজিটাল মার্কেটিংও বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।

প্রতিষ্ঠানগুলো আরও জানিয়েছে, লকডাউনে স্মার্টফোনের বিক্রি পুরোপুরি লক হয়নি। এমনকি ইলেক্ট্রনিক কিছু আইটেমের বিক্রি বেড়েছে বলেও জানালেন অনেকে।

শাওমি মোবাইলের অন্যতম ন্যাশনাল পার্টনার সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশ লিমিটেড (এসইবিএল)-এর প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন জানান, তার প্রতিষ্ঠানও হোম ডেলিভারি দিচ্ছে। গতবছর থেকে এটি চালু করেছেন। মোবাইল শপের নিকটবর্তী শপ থেকে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি দিয়ে তার প্রতিষ্ঠান আলোচনায় উঠে আসে। তিনি বলেন, অন্যসময় ক্রেতা মোবাইল শপে আসে। এখন মোবাইল শপ ক্রেতার কাছে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution