সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ২৫০ অবৈধ লেবেল ক্রসিং মৃত্যুফাঁদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,ই-কণ্ঠ টোয়েন্টিফোর ডটকম॥ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ২৫০টিরও বেশি অবৈধ লেবেল ক্রসিং রীতিমত মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রেলের অনুমোদিত লেবেল ক্রসিংগুলোতেও গেটম্যান যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় ঘটছে দুর্ঘটনা। গত পাঁচ বছরে বৈধ-অবৈধ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার (২৯ জুলাই) মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্না এলাকার বৈধ লেবেল ক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১১ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রেলওয়েও সূত্রে জানা যায়, রেল পূর্বাঞ্চলে বৈধ লেবেল ক্রসিং-এর সংখ্যা প্রায় ৮৫০। এর মধ্যে ৬০০ লেবেল ক্রসিং রেলওয়ে অনুমোদিত বা বৈধ। মূলত স্থানীয় মানুষ নিজেদের চলাচল বা যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে নিজেদের মতো করে অবৈধ এসব ক্রসিং তৈরি করে নেয়। এ সব ক্রসিংয়ে কখনো গেটম্যান থাকে না। ফলে এগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটে অহরহ। এছাড়াও বৈধ ক্রসিংগুলোতেও গেটম্যানদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি বেপরোয়া যানবাহনের কারণে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।

গত ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে বৈধ ও অবৈধ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক মানুষ। পঙ্গু হয়েছে অসংখ্য মানুষ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে বৈধ ও অধৈব ৮০টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে শুধু মিরসরাই থেকে চট্টগ্রান নগর পর্যন্ত এলাকায় অবৈধ ক্রসিং-এর সংখ্যা ৩০টির বেশি। এসব ক্রসিং প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মৃত্যু বাড়ছে ট্রেনে কাটা পড়ে।

সর্বশেষ শুক্রবার (৩০ জুলাই) মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ঝর্ণা থেকে ফেরার পথে রেল ক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসে মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন তরুণের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় ক্রসিংয়ের গেটম্যানের অবহেলা দায়ী করে মামলা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে সাদ্দাম হোসেন নামের ওই গেটম্যানকে।

অবৈধ রেল ক্রসিং-ও দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে চট্টগ্রামস্থ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধে রেলওয়ে সব সময় তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধ করে কাঁটা তার দিয়ে ঘেরাও করে দিলেও স্থানীয়রা কৌশলে এ সব প্রতিবন্ধক খুলে নিয়ে যায়।

মহাব্যবস্থাপক জানান, বৈধ ও অবৈধ সকল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এবং ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে কারও দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা জানান, অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধ করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এরপরও শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব হয় না স্থানীয়দের অসহযোগিতার কারণে। এছাড়াও বৈধ ক্রসিংগুলোতে রেড এলার্ম সিগন্যালের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থায় গেটম্যান দায়িত্ব পালন করেন। এরপরও কিছু গাড়ি চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অসতর্কতা, কখনো কখনো গেটম্যানের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এই ক্ষেত্রে গেটম্যানের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution