সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার, ই-কণ্ঠ টোয়েন্টিফোর ডটকম॥ রাজধানীর সব সড়কেই তীব্র যানজট। সাধারণ জনগণের কাছে যানজট হলো ভোগান্তির আরেক নাম। যানজটের কারণে শুধু মানুষের সময়েরই অপচয় হচ্ছে না, একইসঙ্গে শারীরিক-মানসিক ক্ষেত্রেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ঢাকায় যানজট সমস্যা প্রতিদিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আয় নষ্ট হচ্ছে। সবমিলিয়ে যানজটের কারণে দৈনিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দেখা গেছে, মিরপুর, কাজীপাড়া, ফার্মগেট, বিজয় স্মরণী, কাওরানবাজার, শাহাবাগ, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, পুরান ঢাকার বংশাল, নবাবপুর, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, শনির আখড়া, মালিবাগ, রামপুরার, বাড্ডা এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

এছাড়া রাজধানীতে যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে শ্রমঘণ্টা অপচয়জনিত জাতীয় উৎপাদনশীলতার বিরাট ক্ষতি হচ্ছে। যানজট রাজধানীর নগরজীবনকেই শুধু বিপর্যস্ত করে তুলছে তা নয়, ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য হিসেবেও পরিচিতি এনে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকায় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত প্রাইভেটকার। রাস্তার যানবাহনের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাইভেটকার। কোনো কোনো পরিবারের তিন থেকে চারটি প্রাইভেটকার রয়েছে। রাজধানীর মোট রাস্তার ৫৪ দশমিক দুই শতাংশ জায়গা দখল করে রাখে প্রাইভেটকার। একটি পরিসংখ্যানমতে, গত ১০ বছরে শুধু রাজধানীতে যানবাহন বেড়েছে দুই লাখ ১২ হাজার ১০৩টি। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাও যানজটের কারণ। ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যালের তোয়াক্কা না করে একই পয়েন্টে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত একদিকের যানবাহন আটকে রাখে। অনেক সময় অটো সিগন্যাল বাতিতে যানবাহন নিয়ন্ত্রিত হয় না। এসব নানা তথ্য জানিয়েছেন পরিবহন নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যাত্রাবাড়ি থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসতে ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাসগুলোতে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় বসে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে একবার আটকে গেলে কখন ছাড়বে তার কোন ঠিক নেই। পোস্তগোলা এলাকার লোকাল বাসগুলো এসে যাত্রাবাড়ি মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন বাসের যাত্রীরা। তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার জেলাগুলো থেকে আসা গণপরিবহনগুলোকে ফ্লাইওভারের মুখে এসে থেমে থাকতে হয়। নিচের রাস্তা ভাঙা থাকার কারণেও গাড়ি চলতে পারে না।

মিরপুরের কাজীপাড়া থেকে গুলিস্তানের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। স্বাভাবিক সময়ে এ পথে বাসে যেতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু গতকাল যানজটের কারণে সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টারও বেশি। বাস যাত্রীরা বলছেন, অন্যান্য দিন এই পথটুকু পাড়ি দিতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় তিনগুণের বেশি সময় লাগছে। এতে বাস যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মালিবাগ থেকে বিমানবন্দরগামী বাস বাড্ডা পার হয়ে লিংক রোডে যানজটে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। গরমে যানজটের এ ভোগান্তি সব যাত্রীদের ক্লান্ত করে দিচ্ছে। মহাখালীর এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বাড্ডায় বিমানবন্দর ও রামপুরাগামী সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়। বিজয় সরণী থেকে আগারগাঁও, জাহাঙ্গীরগেট, সাতরাস্তা এবং কারওয়ান বাজার- এ চারটি পৃথক রাস্তার উভয় পাশে যানবাহনের তীব্র চাপ রয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপি মুভমেন্ট থাকায় চাপ আরও বেড়েছে। বিজয় সরণী দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসকে পার হতে ৪৫মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। মহাখালী থেকে নাবিস্কো, তেজগাঁও সাত রাস্তা এবং মগবাজার এলাকায় যানজট দেখা যায়। বিজয় সরণী উড়াল সড়কের পূর্ব অংশ তথা তেজগাঁও এবং সাত রাস্তায় যানজট বেশি ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution