সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

বাঘায় নজর কাড়ছে হালিম-রাহেলার লাল বাহাদুর

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:: গৃহস্থ ও খামারি সরাসরি হাটে নিয়ে গরু বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। ব্যাপারীর পাশাপাশি যারা কোরবানি দিবেন তারাও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গৃহস্থ ও খামারিদের কাছ থেকে গরু কেনা শুরু করছেন। ঈদুল আযহার ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে চাহিদা বাড়ছে কোরবানির পশুর। খামারি-ব্যাপারীরাও বলছেন, কয়েকমাস আগের তুলনায় গো-খাদ্যের দাম এখন বেড়ে যাওয়ার ফলে কোরবানির পশুর বাজার কিছুটা চড়া। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, দেশে এবারও পশুর সংকট নেই।

ঈদের ২/৩ দিন আগে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের হাটে সব চেয়ে বেশি গরু যায়, বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল থেকে। চরাঞ্চলেই প্রায় ৪শ’ গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে যোগাযোগ বিছিন্ন এই চকরাজাপুর ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সরেজমিন চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় আব্দুল হালিম মোল্লার সাথে। ৩৫ বছর ধরে গরু কিনে লালন পালন করে বিক্রি করছেন।

তিনি জানান, চারমাস আগে সিটি হাট থেকে ৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা দিয়ে দু’টি লাল রঙের গরু কেনেন। গরু দু’টি কেনার পর প্রতিদিন তার খরচ হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এই হিসেবে ৪ মাসে খরচ হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা। তার ধারনা গরু দু’টি হাটে নিলে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বিক্রি হতে পারে। মাংসের পরিমান ধরেছেন ২৩ মণ। তার কথায়, বর্তমানে গরু দু’টির দাম বলেছে ৬ লক্ষ টাকা। কেনার পর থেকে গরু দু’টি দেখ ভাল করেন হালিম-রাহেলা দম্পতি। তাই নাম দিয়েছেন হালিম-রাহেলা লাল বাহাদুর। গত বছর ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ১ জোড়া গরু কিনে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন হালিম মোল্লা। পাশের বাড়ির আবু বকর মোল্লার খামারে বাঁধা রয়েছে লাল রঙের মাঝারি আকারের ৪টি গরু। সিটি ও স্থানীয় হাট থেকে ৪মাস আগে গরু ৪টি কিনেছেন ৩ লক্ষ টাকায়। মাঠের কাটা ঘাস বাদে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ১ হাজার টাকা। তার ধারনা গরু ৪টি ৬ লক্ষ টাকা বিক্রি হবে। দাদপুর-কালিদাশখালি গ্রামের নবু দেওয়ানের ১টি গরুর চাওয়া দাম ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। একই গ্রামের নিজাম উদ্দীনের ২টি গরুর দাম চেয়েছেন ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এলাকায় খদ্দের পেলে শহরের হাটে নিবেন না বলে জানান তারা। শুধু তারাই নন, চরাঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতেই কমপক্ষে দু-পাঁচটি গরু পালন করা হয়। পরিচর্যা করেন নারী-পুরুষ মিলে। ৪/৫ মাস আগে এসব গরু কিনে কোরবানি ঈদে বিক্রি করেন। তারা জানান, শুধু খইল, বুট, খেসারি, গম ও মসুর ডালের ভুসি, রাব (মিষ্টিগুড়) খেতে দেওয়া হয়। সঙ্গে ভুট্টা চূর্ণ করে দেওয়া হয়। এখন গোখাদ্যের দাম বেশি। খাবার ও ওষুধ মিলে গরু লালন পালনের খরচও বেড়েছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে লাভ হবেনা।

ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, গরু পালনের বিষয়টি চকরাজাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্য। ১৯৮০-৮২ সাল থেকে চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন জাতের গরু কিনে পালন শুরু করেন। তবে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকে অন্যত্র চলে গেছে, তাই গরু পালনের লোকের সংখ্যাও কমে গেছে। এলাকায় দেশীয় গরুর আমদানির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে বিক্রি করেন।

ব্যাপারীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬শ টাকা। সেই হিসাবে তিন মণ ওজনের একটি গরুর দাম পড়ছে ৭২ হাজার টাকা। ঈদের আগে মাংসের কেজি ৭শ টাকা ধরলে তিন মণের গরুর দাম পড়বে ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ কেউ তিন মণের একটি গরু কিনতে চাইলে ১২-১৩ হাজার টাকা বেশি গুনতে হতে পারে। কোরবানি ক্রেতা আব্দুল হানিফ জানান, মাংসের আনুমানিক ওজন ধরে ৬০০ টাকা কেজি দরে গরু কিনতে পারছেননা। খামারি কিংবা ব্যাপারিরা যে দাম চাইছেন তাতে করে ৬০০ টাকা কেজির উপরে।

উপজেলা প্রাাণিসম্পদ অফিসার ডা.রোকনুজ্জামান বলেন, উপজেলায় গরু, ছাগল ও গাভীসহ খামররির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার। সব মিলে কোরবানি যোগ্য পশু রয়েছে ১৩ হাজার ৭০০। এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে সাড়ে ১১ হাজার। চাহিদার তুলনায় উপজেলায় ২ হাজার ২০০ কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ালেও এবার দাম বাড়বেনা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution