মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

প্রথম পর্যটক হিসেবে মহাকাশ ঘুরে আসলেন রিচার্ড ব্র্যানসন

অনলাইন ডেস্ক:: প্রথমবারের মতো পর্যটক হিসেবে মহাকাশের প্রান্ত ঘুরে আসলেন ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসন। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এটা একজীবনের অসামান্য অভিজ্ঞতা।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য পরিচিতি রয়েছে তার। ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে নিজের কোম্পানির তৈরি রকেটে তিন সহকর্মীকে নিয়ে মহাকাশ ঘুরে এসে মানুষের জয়যাত্রার নতুন মাইলফলকে নাম লেখালেন তিনি।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে আটটায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো থেকে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করে ব্র্যানসনের মহাকাশভ্রমণ কোম্পানি ভার্জিন গ্যালাকটিকের নভোযান। এক ঘণ্টার যাত্রা শেষে লাইভ ফিডে ব্র্যানসন বলেন, ‘আমাদের আজকের এ পর্যায়ে আসতে ভার্জিন গ্যালাকটিকের দুর্দান্ত দলটিকে ১৭ বছরের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এ জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই।’

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্র্যানসনের রকেটটি ৫৩ মাইল (৮৫ কিলোমিটার) উচ্চতায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই দূরত্ব মহাকাশের সীমার চেয়েও বেশি। এ দূরত্বে গেলে যাত্রীরা ওজনহীনতার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। এ যাত্রার মধ্য দিয়ে মহাকাশ পর্যটনের ইতিহাস গড়লেন রিচার্ড ব্র্যানস

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সকালে এক ঘণ্টার যাত্রার পর ওজনহীনতার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন ব্র্যানসন ও তার সফরসঙ্গীরা। এ মহাকাশযাত্রার মধ্যে দিয়ে তিনি আরেক ধনকুবের আমাজনের জেফ বেজোসের চেয়ে ৯ দিন এগিয়ে গেলেন। নিজের রকেট ইঞ্জিন তৈরির প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের ‘নিউ শেপার্ড’ নভোযানে ২০ জুলাই ‘মহাকাশের সীমা’ থেকে ঘুরে আসার কথা রয়েছে বেজোসের। সেটিও মানুষ নিয়ে ব্লু অরিজিনের প্রথম অভিযান। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ব্র্যানসন ও বেজোস মিলে মহাকাশ পর্যটন প্রতিযোগিতার যুগ শুরু করছেন।

পৃথিবীতে ফিরে ব্র্যানসন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যখন ছোট্ট শিশু ছিলাম, তখন থেকেই এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কোনো কিছুই আপনাকে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার জন্য তৈরি করবে না।’ তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টাই ছিল জাদুর মতো।’

বিবিসি জানায়, মহাকাশযাত্রায় ব্র্যানসনের সঙ্গে ছিলেন পাইলট ডেভ ম্যাকে ও মাইকেল মাসুকসি। অন্য তিনজন হলেন গ্যালাকটিকের কর্মী বেথ মসেস, কলিন বেনেট ও শ্রীসা বান্ডলা।

রিচার্ড ব্র্যানসনের এই অভিযাত্রাকে মহাকাশ পর্যটনের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক অভিজ্ঞতা বলা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে তিনি আগ্রহী যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করবেন। ইতোমধ্যে ভার্জিন গ্যালাকটিকের কাছে যাত্রী হিসেবে ৬০০ ব্যক্তি অগ্রিম টিকিটের ফরমাশ দিয়ে রেখেছেন। এক ঘণ্টার এই অভিজ্ঞতা নিতে খরচ হবে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার বা ২ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। এ যাত্রায় পাঁচ মিনিটের মতো ওজনহীনতার অভিজ্ঞতা ও পৃথিবীর দিগন্ত দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে।

রিচার্ড ব্র্যানসনের এই সফলতার পথ কিন্তু একেবারে মসৃণ ছিল না। ২০০৪ সালে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য উড়োজাহাজ তৈরির ঘোষণা দেন তিনি। ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে তা চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু কারিগরি সমস্যা, মারাত্মক দুর্ঘটনা তা পিছিয়ে দেয়। ব্র্যানসনের ক্যারিয়ারে এটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ ছিল।

বিবিসিকে ব্র্যানসন বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। আগামী ১০০ বছরের মধ্যে শত শত মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যও রয়েছে তার।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution