সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

প্রথম ওয়ানডেতেই জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জার হার বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার, ই-কণ্ঠ টোয়েন্টিফোর ডটকম ॥ হারারেতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ শুক্রবার সিকান্দার রাজা আর ইনোসেন্ট কায়ার জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩০৪ রানের লক্ষ্য ৫ উইকেট আর ১০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন রাজা। ১০৮ বলে ৮ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ১৩৫ রানে।

শুক্রবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে তারা তিন সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। অথচ বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা একদমই ভালো ছিল না। প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারকে কাট করতে গিয়ে স্টাম্পে বল টেনে আনলেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক রেগিস চাকাভা। ২ রান করেই ফিরলেন বোল্ড হয়ে। এবার লম্বা সময়ের দুঃসহ যন্ত্রণার অবসান ঘটাল জিম্বাবুইয়ে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথমবার বাংলাদেশকে হারানোর পর উজ্জীবিত জিম্বাবুইয়ে ৯ বছর পর এবং টানা ১৯ ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর ওয়ানডেতেও জিতেছে।

তবে এবার দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে জিম্বাবুইয়ে। আগে ব্যাট করে তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, এনামুল হক বিজয় ও মুশফিকুর রহিমের অর্ধশতকে ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে সিকান্দার রাজা ও ইনোসেন্ট কাইয়ার জোড়া সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩০৭ রান তুলে ১০ বল হাতে রেখেই এ দারুণ জয় পায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তাদের সর্বাধিক রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এ জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে জিম্বাবুইয়ে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের বড় স্কোর ৩০৩ রান। শুক্রবার ৫ আগস্ট হারারেতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে জিততে হলে করতে হবে ৩০৪ রান। ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ টপ অর্ডারের প্রথম চার ব্যাটারই হাফসেঞ্চুরি করলেন।

১১৯ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙ্গে যায় সিকান্দারের অফস্পিনে। জিম্বাবুইয়ের মাটিতে এটিই বাংলাদেশের সেরা ওপেনিং জুটির রেকর্ড।

শুরুতে চ্যালেঞ্জ জানালেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। তাদের বলে থাকল সুইং, অস্বস্তিতে পড়লেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। চাপ সামলে তামিম ইকবাল পেলেন হাফ সেঞ্চুরি, ছুঁলেন মাইলফলক। হাফ সেঞ্চুরি পেলেন লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম আর তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফেরা এনামুল হক বিজয়ও। তাতে জিম্বাবুয়েকে বড় রানের সামনেই দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।

২ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সামনে এই লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে তামিম ইকবালের দল।

হারারেতে টসের সময় জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক রেগিস চাকাভা জানিয়েছেন, শুরুর দিকে উইকেটের সাহায্য পেতে পারেন বোলাররা। যে কারণে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। তবে শুরুতে বোলারদের সেই সুবিধাটা নিতে দেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।

দুজনের জুটিতেই ১০০ পাড় করে বাংলাদেশ। তামিম-লিটনের উদ্বোধনী জুটিতে এ নিয়ে চতুর্থবার ঘটে এমন ঘটনা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে তামিম স্পর্শ করেন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই ফরম্যাটে ৮ হাজার রানের মাইলফলক।

এরপর অবশ্য খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তামিম। ৯ চারে ৮৮ বলে ৬২ রান আসে তার ব্যাট থেকে। দলের রান তখন ১১৭। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন লিটন। জীবন পেয়েছিলেন, রান করতে পারছিলেন না, খেলছিলেন ডট বল। তবে হাফ সেঞ্চুরি তোলার পরই খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন এই ব্যাটার।

৭৫তম বলে এসে ফিফটি পেয়েছিলেন লিটন। পরে ১৪ বল ক্রিজে ছিলেন, তুলেছেন ২১ রান। কিন্তু যখনই উইকেটে টিকে থাকার ফায়দা তুলতে যাবেন, তখনই লিটন টান পান পেশিতে। ৮৯ বলে ৮১ রান করে মাঠ ছাড়তে হয় রিটায়ার্ড হার্ড হয়ে।

এতে একরকম সুযোগই আসে এনামুল হক বিজয়ের কাছে। লিস্ট-এ ক্রিকেটে হাজারের ওপর রান করে রেকর্ড গড়েছিলেন, তাতেই ডাক আসে জাতীয় দলে। টেস্ট, টি-টোয়েন্টি খেলে ফেললেও বিজয় সুযোগ পাচ্ছিলেন না ওয়ানডেতেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্কোয়াডে থাকলেও তিন ম্যাচই থাকতে হয়েছে সাইড বেঞ্চে বসে।

বিজয়ের কাছে সুযোগটা এসেছে জি¤॥^াবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে। তিনি কতটা কাজে লাগাতে পেরেছেন? অনেকটাই। ইনসাইড এজ হয়েছে, ক্যাচও তুলেছেন। কিন্তু বিজয়কে দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসী, খেলেছেন দারুণ কিছু শটও। যদিও সবকিছুতে পূর্ণতা দিতে পারেননি সেঞ্চুরি করে।

৬ চার আর ৩ ছক্কায় ৬২ বলে ৭৩ রান করেছিলেন। ভিক্টর নিউয়াচির বল তুলে মারতে গিয়ে তিনি ক্যাচ তুলে দেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়েলিংটন মাসাকাদাজার হাতে। বাংলাদেশের ইনিংসটা পরে আর এগোয়নি ঝড়ের গতিতে। মুশফিকুর রহিম ক্রিজে ছিলেন, পরে এসেছিলেন আরেক অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

ইনিংসের ৪৯তম ওভারেই যেমন, এসেছে কেবল ৭ রান। তবুও অবশ্য দলীয় সংগ্রহ ছাড়িয়েছে তিনশ। মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে ২০ ও মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ছিলেন ৪৯ বলে ৫২ রানে।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথম সেঞ্চুরি পান কাইয়া। তিনি শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১২২ বলে ১১ চার ২ ছক্কায় ১১০ রানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অফস্পিনে সাজঘরে ফেরেন। এই জুটিতেই সর্বনাশ হয়েছে বাংলাদেশের, বোলাররাও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

ততক্ষণে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে জিম্বাবুইয়ে। সিকান্দারও ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন। ১০৯ বলে ৮ চার, ৬ ছক্কায় ১৩৫ রানের বিধ্বংসী অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে বড় জয় এনে দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ৪ বোলার ১টি করে উইকেট নিয়েছেন- মুস্তাফিজ ৯ ওভারে ৫৭, শরিফুল ৮.৪ ওভারে ৫৭, মেহেদি হাসান মিরাজ ১০ ওভারে ৫৯ ও মোসাদ্দেক হোসেন ৯.২ ওভারে ৬৭ রান খরচা করে। ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০৭ রান তোলে তারা।

এর আগে দুইবার ৩ শতাধিক রান করেও হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে ৩০৫ রান করে এবং ২০১৪ এশিয়া কাপে মিরপুরে পাকিস্তানের কাছে ৩২৬ রান করেও হেরে যায় বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুইয়ে চতুর্থবার ৩ শতাধিক রান তাড়া করে জিতল।

স্কোর ॥ বাংলাদেশ ইনিংস- ৩০৩/২; ৫০ ওভার (লিটন ৮১*, বিজয় ৭৩, তামিম ৬২, মুশফিক ৫২*, মাহমুদুল্লাহ ২০*; রাজা ১/৪৮, নিয়াউচি ১/৬৫)।

জিম্বাবুইয়ে ইনিংস- ৩০৭/৫; ৪৮.২ ওভার (সিকান্দার ১৩৫*, কাইয়া ১১০, জংউই ২৪; মুস্তাফিজ ১/৫৭, শরিফুল ১/৫৭, মিরাজ ১/৫৯, মোসাদ্দেক ১/৬৭)।
ফল : জিম্বাবুইয়ে ৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুইয়ে)।
সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুইয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution