মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে পলাশ এখন মাদক মামলার আসামী

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি::

জনৈক প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা খুইয়েছে মনিরাম হালমাঝিপাড়া গ্রামের যুবক পলাশ বাবু (৩০)। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ওই প্রতারক চক্রের ষড়যন্ত্রে পলাশ এখন মাদক মামলার আসামী হয়ে জেল হাজতে রয়েছেন। পলাশকে ওই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি, পাওনা টাকা আদায়সহ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন পলাশের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৮)।

বুধবার বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফাতেমা বেগম লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।

প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল মজিদ, রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি আব্দুল আলীম প্রামাণিক, রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি জাকিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্মল রায়সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা খাতুন বলেন, তার প্রতিবেশী (একই গ্রামের) আনছার আলী তার স্বামী পলাশ বাবুকে মঙ্গলিয়া যাওয়ার জন্য প্ররোচনা দেন। প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আনছার আলীর ভাগ্নে গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরের ভুটকা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলামের মাধ্যমে মঙ্গলিয়া (বিদেশ) যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরীর খরচ ও দায়িত্ব দেন। পাসপোর্ট পাওয়ার পর গত ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারী পলাশ বাবু ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন নাজমুল ইসলামকে। ফলে কয়েকদিন পর প্রতারক নাজমুল মঙ্গলিয়া নিয়ে যাওয়ার নাম করে পলাশকে নিয়ে যেতে থাকে ভারতে। ভারত ঢুকার সময় নিরাপত্তা প্রহরীর হাতে ধরা পড়ে পলাশ বাবু। ৩ মাস ভারতীয় জেলে থাকার পর দেশে ফেরৎ আসেন পলাশ। এসে জানতে পান নাজমুল মঙ্গলিয়া গেছে। তখন বিষয়টি নাজমুলের পিতা নজরুল ইসলামকে জানালে তিনি ওই টাকা ফেরৎ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও টাকা পরিশোধ না করায় স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা শালীশী বৈঠক হয়। এতে নজরুল ইসলাম ও তার শ্যালক আনছার আলী টাকা ফেরৎ দিতে চাইলেও টাকা ফেরৎ দেন নি। গত ১৭ জুন দুপুরে নাজমুলের পিতা নজরুল শ্যালক আনছার আলীর বাড়ীতে আসতে থাকলে পথিমধ্যে পলাশের দেখা হয়। এসময় পলাশ তার কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে নজরুল ও তার শ্যালকের ছেলে লাবলু (৪৪), বাবু মিয়া (৩০), লাবলুর ছেলে মুকুট মিয়া (১৯)সহ ৮-৯ জন মিলে পলাশ বাবুর বাড়ীতে গিয়ে টাকা চাওয়ার কারণে তাকে ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে বেদম মারপিট করে। এসময় নজরুল ও তার লোকেরা পলাশ বাবুর বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় পলাশ বাবু বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে প্রতারক নজরুল ও তার শ্যালক পরিবারের লোকেরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সুচতুর নজরুল ও তার লোকেরা কৌশলে ঘটনাটি মীমাংসার প্রস্তাব দেন তার স্বজন মনিরাম হালমাঝিপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মোকাররম হোসেনের মাধ্যমে। এর পর মোকাররম হোসেনের ছোট ভাই মোজাফফর হোসেনের মাধ্যমে পলাশ বাবুকে গত ২৩ জুন রাত অনুমান ১০টার দিকে নিয়ে যায় রংপুর মহানগরীর ধাপ পাকার মাথায় (মেডিকেল পূর্বগেট সংলগ্ন)। সেখানে মোজাফফর তার মামা শ্বশুড়ের লোকদের সহায়তায় পলাশ বাবুকে রাতভর আটকে রেখে বেদম মারপিট করে। মোজাফফর হোসেন ভোর রাতে পলাশকে উদ্ধারের নামে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। এর পরও তারা পলাশের হাতে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে (২৪ জুন) সকাল বেলা স্থানীয় ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশকে সংবাদ দিলে কর্তব্যরত পুলিশের এসআই ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাদকসহ পলাশবাবুকে আটক করে রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানায় মামলা দেন। ওই মামলায় তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম আরো বলেন, প্রায় দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করতে তার স্বামীকে অনেক দেনা করতে হয়েছিল। তাই পাওনাদারদের চাপে তারা স্বামী স্ত্রী মিলে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর ঢাকায় গার্মেন্টেন্সে কাজ করে পাওনাদারদের অধিকাংশ টাকা পরিশোধ করেছেন। সম্প্রতি ফাতেমা অসুখে আক্রান্ত হলে তারা গার্মেন্টন্সের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে প্রায় ৪ মাস পূর্বে বাড়ীতে আসেন। এর পর থেকে তার স্বামী পলাশ বাবু অটো (বড়াইবাড়ীর হাট-গঙ্গাচড়া রুটে) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সে নিজে কখনো মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না। যা এলাকার সবাই ভালভাবেই জানেন। সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেগমের সাথে তার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাতেমা বেগম তার স্বামীকে ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলা থেকে মুক্তি, প্রতারকদের কাছ থেকে টাকা ফেরৎ, তাদেরকে মারপিট, বাড়ী ভাংচুর-লুটপাটের জন্য প্রতারক ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ শাস্তি দাবী করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution