বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

নবাবগঞ্জে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বেহাল দশা

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বেহাল দশা। বিশেষ করে এই সব ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থা।

নানান সমস্যায় শিকারীপাড়া ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ৩ টি পদ শূন্য, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ৪ টি পদ শূন্য, বারুয়াখালী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ২ টি পদের ২ টি পদই শূন্য, নয়নশ্রী ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ৪ টি পদ শূন্য, শোল্লা ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ৩ টি পদ শূন্য, যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ১ টি পদ শূন্য, বান্দুরা ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ৪ টি শূন্য পদ এবং সদর ক্লিনিক টা পুরোটাই বাতিল করা হয়েছে।

বক্সনগর ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য, বাহ্রা ইউনিয়নের ৫ টি পদের ২ টি পদ শূন্য রয়েছে, কৈইলাইল ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ৩ পদ শূন্য রয়েছে, আগলা ইউনিয়নের ৫ পদের মধ্যে ২ পদ শূন্য রয়েছে, গালিমপুর ইউনিয়নের ৫ টি পদের মধ্যে ২ টি শূন্য পদ রয়েছে এবং চূড়াইন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ২ টি পদের মধ্যে ২ পদ শূন্য রয়েছে। ১৪ জন ফার্মাসিস্ট পদের মধ্যে ৯ শূন্য থাকায় গত ছয় বছরে কোন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটিও ডেলিভারি হয়নি।

এর ফলে গরীব অসহায় ও গর্ভবতী নারীরা সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে অসহায় শিশু, গর্ভবতী মায়েরা । শূন্যপদ গুলোর মধ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ১১ টি পদের মধ্যে ৫ টি শূন্য পদ রয়েছে এর মধ্যে একজন ডেপুটেশনে রয়েছে । ফার্মাসিস্ট ১১ টি পদের মধ্যে ৯ টি পদ শূন্য রয়েছে । এর মধ্যে একজন কেন্দ্রীয় পণ্যাগার কর্মরত । পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ১৪ টি পদের মধ্যে ১০ টি পদ শূন্য রয়েছে। একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রয়েছে।

অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১ টি পদের মধ্যে ১ টি শূন্য রয়েছে। কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে শূন্যপদ দিয়ে। শূন্য পদ পূরণ না করার ফলে গ্রামের অসহায় গরীব দরিদ্র ও বিভিন্ন পেশার মানুষ বিশেষ করে শিশু বয়স্ক ও গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । এইসব পদে লোক নিয়োগ করা না হলে এইসব সুবিধা থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহু দিনের পুরাতন একতলা ভবন, চারপাশে জঙ্গলে ভরা, পোঁকামাকরের উপদ্রব, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পাানি। রুম পানিতে ডুবে যায়, বসার কোন অবস্থাই থাকে না।

চারদিকের পলেষ্টের উঠে গেছে। কোন কোন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও চিকিৎসক, নাস, কর্মচারী না থাকায় দরজা, জানালা, আসবাবপত্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না থাকা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন -স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট না থাকায় গত পাঁচ-ছয় বছর অনেক কেন্দ্রে কোন ডেলিভারি হয়নি । এর ফলে গ্রামের গরিব অসহায় দরিদ্র মায়েরা বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা সব থেকে বেশি সমস্যা পড়তে হচ্ছে । এর ফলে হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা ১২ টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় প্রকৃত তৃণমূল পর্যায় চিকিৎসা সেবা থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে।

ওষুধপত্র ঠিকমতো তারা পাচ্ছেন না এলাকাবাসীর অভিযোগ। ডাক্তার নিজের ইচ্ছায় আসেন, আবার নিজের ইচ্ছায় যান । অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তার মাসে দুই একদিনের জন্য আসেন । নার্স নেই, ফার্মাসিস্ট না থাকায় গত ৬ বছরে একটি ও ভেলিভারি হয়নি। যেখানে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট সার্বক্ষণিক থেকে ইউনিয়নের তৃনমুলের মানুষদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন । বিশেষ করে বয়স্ক, শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া ও গর্ভবতী মায়েদের ভেলিভারি ব্যবস্থা করা।

চিকিৎসা সামগ্রী ঔষধ নাই। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ গুলো চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । চিকিৎসা সেবার বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের রয়েছে হাজারো অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবন নির্মাণ করলেই চলবে না এবং সার্বক্ষণিক ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, নার্স ও পযাপ্ত ওষুধ দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা যেন সুচিকিৎসা পান সেই ব্যবস্থা দ্রুত করার আহ্বান জানান।

শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান তুহিন বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক ভাবে । একমাত্র ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা বেহাল দশা। বহুদিন পূর্বের ভবনে নামমাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্র। চিকিৎসা সেবার নামে ভন্ডামি। মাসে নামমাত্র এক/ দুই দিন আসেন। দুই একঘন্টার জন্য নিজের ইচ্ছায় আসেন আবার খেয়াল খুশি মতো চলে যান। এই অঞ্চলের মানুষের সুচিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের ভেলিভারি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গত ৬/৭ বছরে ও এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একটি ভেলিভারি হয়নি। শুধু তাই নয়, অবকাঠামো এতোই নাজুক যে কোন মুহুর্তে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। পলেষ্টার উঠে গেছে। একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পানি পরে ভিতরে হাঁটু পানি হয়। চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ নিয়ে নানা ধরনের রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত নতুন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মান করে জনবল দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করছি। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক সমস্যার মাঝে ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়ে অবহিত আছেন । আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারবো।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution