রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

ঢাকামুখী মানুষের স্রোত সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই দেশজুড়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে গত ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। ঈদের আগের দিন ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ে। ঢাকায় ফেরার জন্য হাতে আছে শুধু আজকের দিনটি (২২ জুলাই)। এই একদিনেই ঢাকা ফিরতে হবে বিপুল পরিমাণ মানুষকে।

ঢাকামুখী মানুষের এ স্রোত সংক্রমণ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘ঈদের পরদিনই সবার ছুটি শেষ হচ্ছে। সবাই মিলে একসঙ্গে কর্মস্থলে ফিরতে গেলে ঝুঁকি তৈরি হবে।’

এদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১৫ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা ছেড়ে যাওয়া সিমের হিসাব। এই ক’দিনে ঢাকা ছেড়েছে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২টি সিম।

এ বিষয়ে খুরশীদ আলম বলেন, ‘বিষয়টা নিয়ে আমরাও ভাবছি। এটি আসলে অনেক চিন্তার বিষয়। কিন্তু এটি নিয়ে কী করবো বলেন। জানি না ঈদ পরবর্তী সময়ে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়।’

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, ‘ঈদের আগে আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম কারফিউ দিয়ে দেওয়ার। কিন্তু এটি তো হয়নি। এই মুহূর্তে প্রয়োজন হলো ছুটি দুই একদিন বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু কী হয় বলতে পারছি না।’

হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালগুলোয় বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন। আইসিইউসহ সাধারণ শয্যাগুলোও পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে কোনো প্রস্তুতিই কাজে আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি শুরু করছি। অন্যান্য হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মানুষের ঈদ আনন্দ যেন বেদনায় পরিণত না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক।তিনি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অসংখ্য মানুষ গ্রামে গেছে। সবাই সুস্থতার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করুন, তবে মনে রাখবেন, ঈদ যেন বিষাদে পরিণত না হয়।’

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি দিনদিন খারাপ হচ্ছে। হাসপাতালের শয্যাগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে সতর্কতার বিকল্প নেই। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরতে হবে।’

পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, ঢাকা থেকে বাসেই গেছেন প্রায় ২৫ লাখ যাত্রী। তার বাইরে ট্রেনে ও লঞ্চে যাত্রীরা গেছেন। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে এটা বলা যায় যে, এবার অন্তত পৌনে এক কোটি লোক ঢাকা ছেড়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী  বলেন, ২০ জুলাই সবচেয়ে বেশি লোক ঢাকা ছেড়েছে। ২১ জুলাইও লোকজন বাড়ি গেছেন। এসব তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা বলতে পারি প্রায় পৌনে এক কোটি লোক ঢাকা ছেড়েছে। কারণ শিশুসহ গরিবদের বড় একটি অংশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না।

পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ। যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। বুধবার রাতে (২১ জুলাই) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বিধিনিষেধ শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ছে না। ২৩ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়ে চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এই ১৪ দিন যদি আমরা বিধিনিষেধ মেনে চলি, তাহলে সংক্রমণের চেইনটা ভাঙতে পারবো।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution