মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০০ বছরের সূর্যপুরী আমগাছ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে ‘এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ’ এবং ২০০ বছরের পুরোনো সূর্যপুরী আমগাছ। আমগাছটির ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য শুধু দেশের পর্যটক নয়, বিদেশের অনেক অতিথিকেও আকৃষ্ট করে। শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় করে ছুটে গিয়ে চোখ জুড়ানোর লোভ সামলাতে পারেন না অনেকে।

ব্যতিক্রমী এই আমগাছ পশ্চাৎপদ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাকে বিশ্বের কাছে আজ পরিচিত করে তুলেছে। দূর থেকে বটগাছের মতো বিশাল আকৃতির দেখতে মনে হলেও গাছটি আসলে বটগাছ নয়, এটি একটি আমগাছ- যা কাছে থেকে দেখলে বোঝা যায়।

শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে নয়, এই আমগাছটি এখন বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশে। গাছের মূল থেকে ডালপালাকে আলাদা করে দেখতে চাইলে রীতিমত ভাবতে হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রিয় একটি আমের জাত সূর্যপুরী ।

সুস্বাদু, সুগন্ধী, রসালো আর ছোট আটি সূর্যপুরী আম জাতটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সূর্যপুরী বোম্বাই জাতীয় লতানো বিশাল আকৃতির আমগাছটি ৭৪ শতাংশ জমির উপরে অর্থাৎ প্রায় দুই বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।

গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ৮০-৯০ ফুট। এর পরিধিও ৩৫ ফুটের কম নয়। মূল গাছের তিন দিকে অক্টোপাসের মত মাটি আঁকড়ে ধরেছে ১৯টি মোটা মোটা ডালপালা। বয়সেরভারে গাছের ডালপালা নুয়ে পড়লেও গাছটির শীর্ষভাগে সবুজের সমারোহ, আমের সময় সবুজ আমে টইটম্বুর থাকে এই গাছটি। আমগুলোর ওজনও হয় প্রতিটি ২০০ গ্রাম থেকে ২৫০ গ্রাম।

স্থানীয়দের কাছে এই আমগাছের ইতিহাস অনেক পুরোনো। মাটি আঁকড়ে থাকা মোটা ডালপালা গুলো দেখে অনেকেই গাছটির বয়স অনুমান করতে চেষ্টা করেন, কিন্তু কেউ সঠিকভাবে গাছটির বয়স বলতে পারছেন না। গাছটি কোন সময় লাগানো হয়েছে- তা সঠিক জানা নেই কারও। আমগাছটির আনুমানিক বয়স ধরা হয় ২২০ বছরেও অধিক।

এই ঐতিহ্যবাহী আমগাছটি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৭ নং আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী সীমান্তের মন্ডুমালা গ্রামে। প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে উঠে আজ ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই গাছটি।

দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সাথে কথা বললে তারা গাছটি সর্ববৃহৎ ও সুন্দর বলে প্রশংসা করে বলেন, এখানে যদি পর্যটকদের জন্য থাকার, বসার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো- তাহলে আরও ভালো হতো।

উত্তরাধিকার সূত্রে গাছটির বর্তমান মালিক নূর ইসলাম জানান, গাছটির তার দাদা খোন্টু মোহাম্মদ রোপন করেছিলেন। গাছটির অনেক বয়স হওয়া সত্ত্বেও এখনো প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ মণ আম দেয়। যার দাম হয় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। দূর-দূরান্ত থেকে গাছটি দেখতে ছুটে আসেন অনেক মানুষ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পর্যটকদের জন্য অনেক কিছু করা যেত, কিন্তু এককভাবে করে তা কুলায় উঠতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

গাছটি যদিও ব্যক্তিমালিকানাধীন তাও পর্যটকদের সাময়িক বিশ্রামের জন্য ও খাবারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলেন জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ রেস্টুরেন্ট ও রেস্ট হাউজ করতে চাইলে সেটাকেও প্রধান্য দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution