রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

কেএসআরএমের বিরুদ্ধে চোরাই জাহাজ ক্রয়ের অভিযোগ, ইয়ার্ড থেকে জাহাজ জব্দ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক:: কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিডেটের (কেএসআরএম) শিপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে চোরাই জাহাজ এমটি মেডান জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। নাম পরিবর্তন ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে মেডান জাহাজটি কিনেছে কেএসআরএম। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চোরাই জাহাজ কিনে এনে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে কেএসআরএম।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় খাজা শিপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উদ্ধারের পর ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ তত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদটি জাহাজটির পাহারায় চৌকিদার নিয়োগ দিয়েছে।

নৌ-অধিদফতর জানিয়েছে, জাহাজটির বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে সালিশ চলছে। এমনকি মালয়েশিয়া পুলিশের কাছে প্রতারণার মামলা রয়েছে। চুরি করা জাহাজ ক্রয় করার কারণে কেএসআরএম-এর জন্য বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। যদিও কেএসআরএম মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাহাজটি ভাঙার অনাপত্তিপত্র নিয়েছিল। তবে সেই অনাপত্তিপত্র বাতিল করেছে নৌ-বাণিজ্য দফতর।

জানা গেছে, কুক আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এমটি মেডান জাহাজটির প্রকৃত মালিক সিঙ্গাপুরের রেজিস্ট্রার্ড কোম্পানি ডায়া মেরিন প্রাইভেট লিমিটেড। ১৯৯১ সালে জাহাজটি জাপানে তৈরি করা হয়। জাহাজটি পরিচালনার (চার্টার্ড) জন্য ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ৮২ লাখ মার্কিন ডলারে মালয়েশিয়ার অরিন এনার্জি কুয়ালালামপুরে সঙ্গে ডায়া মেরিনের সিঙ্গাপুরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর অরিন এনার্জি কুয়ালালামপুর ২০ লাখ ডলার ডায়া মেরিনের সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠায়। ১৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ার লিঙ্গি পোর্টে জাহাজটি হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে ১৬ নভেম্বর অরিন এনার্জি জানতে পারে জাহাজ মেরামত ও ক্রু পরিবর্তনের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় বন্দরে অবস্থান করছে।

সেখান থেকে আফ্রিকার পোলাও গিয়ে জাহাজের নাম পরিবর্তন করা হয়। জাহাজ মালয়েশিয়া না এনে নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রাখায় অরিন এনার্জি মালয়েশিয়া পুলিশের কাছে প্রতারণার মামলা করে। পরে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে মামলা হয়। আর ওই জাহাজটি কিনে বাংলাদেশে নিয়ে আসে কেএসআরএম গ্রুপ। অবৈধভাবে জাহাজটির নাম পরিবর্তন করায় পানামার দায়ান হোল্ডিংস লিমিডেটকেও বিবাদী করা হয়েছে মামলায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খারাপ উদ্দেশ্যেই ডায়া মেরিন ও কেএসআরএম গ্রুপের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। এই কাজটি করায় আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

নৌ-অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এমটি মেডন জাহাজটি গত ৩ জুন বাংলাদেশে জলসীমায় পৌঁছায়। এরপর নৌ-বাণিজ্য দফতরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রতারণার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে শিপিং মাস্টারকে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি অনাপত্তি সনদ জারি না করার অনুরোধ করে অবৈধ জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশে করলে বহির্বিশ্বে সুনাম ক্ষুণ্ন হবে বলে উল্লেখ করেন। ২০ জুন জাহাজটি গ্রেফতারে আদেশ জারি করেন আদালত।

আদালতের অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট পেয়ে বৃহস্পতিবার খাজা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে থেকে জাহাজটি গ্রেফতার করে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় দেয় নৌ-পুলিশ।

এদিকে জাহাজটির বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি কেএসআরএম গ্রুপ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাহাজের প্রয়োজনীয় সব কিছু আপডেট আছে। স্ক্র্যাপ করার মতো পরিস্থিতিও হয়নি। এর পরও জাহাজটি ভাঙার জন্য কেএসআরএম শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, নৌ-বাণিজ্য দফতর থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়েছে। তবে মামলা ও জালিয়াতির বিষয় না জানানোয় নৌ-বাণিজ্য দফতরের অনাপত্তিপত্র বাতিল করেছে। গত ১৯ মে ১০টি শর্তে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জাহাজটি ভাঙার অনাপত্তি দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution