মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন। হঠাৎ করে বেড়ে গেছে প্রায় সব জিনিসের দাম। ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজ, পোল্ট্রি মুরগি, ডিম কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই নিত্যপণ্যের বাজার আজ নিয়ন্ত্রণহীন। বাজার সিন্ডিকেটের দাপট দেখে মনে হয় সরকার ও প্রশাসন বাজার সিন্ডিকেটের কাছে অসহায়।

পেঁয়াজ নিয়ে হচ্ছেটা কী? এই প্রশ্ন এখন ভোক্তাদের মনে। তারা ক্ষুব্ধ হতাশায় দিশাহারা। অসাধু ও অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। আগে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪৫ টাকা। দিন কয়েকের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। একইভাবে গরিবের মোটা চালের কেজি পৌঁছেছে ৫০ টাকায়। চালের দামের ওপর নির্ভর করছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামের সমীকরণ। পরিণামে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীসহ সীমিত আয়ের মানুষ। একইভাবে তারা বাড়িয়ে দিয়েছে কাঁচামরিচের দাম। কাঁচামরিচের কেজি এখন ২০০ টাকা। ক’দিন আগেও কাঁচামরিচের কেজি ছিল ৮০ টাকা। শাকসবজি, মাছ-মাংসের দামও বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, ক’দিন আগেও ছিল ১২০ টাকা কেজি। পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা কেজি- যা ক’দিন আগেও ছিল ২৪০ টাকা কেজি। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। চোখে পড়ছে না সারাদেশে কালোবাজারি ঠেকানোর কার্যক্রম।

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষের এখন করুণ অবস্থা। তারা এখন আর পেঁয়াজ খেতে পারছে না। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারই পেঁয়াজ খাওয়া বাদ দিয়েছে। কিন্তু এটা কোনো যৌক্তিক সমাধান নয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীদের নৈরাজ্য আর কতদিন চলবে। এমন অরাজক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান জরুরি। এর আগে ৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এটা হচ্ছে মূলত ব্যবসায়ীদের নীতিহীনতা এবং জনসাধারণের পকেট কাটা। এর আগেও তারা চাল, পেঁয়াজ ও চিনির দাম বাড়িয়ে শত শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছিল। লবণ সংকটের গুজব ছড়িয়ে লবণের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিল। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে তা বন্ধ হয়েছে।

এসব হচ্ছে বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি। এরা জনগণের স্বার্থের দিকে নজর দেয় না। এরা বাজারসন্ত্রাসী। কীভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করে দ্রম্নত ধনী হবে এটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তারা একেক সময় একক অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ায়। তাদের অজুহাতের শেষ নেই। আরো অবাক ব্যাপার, বাংলাদেশে একবার কোনো পণ্যের দাম বাড়লে আর আগের অবস্থায় ফিরে যায় না।

ফলে তাদের কাছে দেশের অসহায় জনগণ জিম্মি হয়ে পড়ে। ক্ষেত্র বিশেষ সরকারও তাদের কাছে জিম্মি। বাজার নিয়ে অতীতে অনেক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, প্রচুর লেখালেখি হয়েছে, আমরাও সম্পাদকীয় কলামে বহুবার লিখেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বিক্রেতাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।

সবার আগে অসৎ ও অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাদের মানসিকতার পরিবর্তন যতদিন না ঘটবে ততদিন পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution