বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

সাকিবের ব্যাটে দুর্দান্ত জয় এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ টাইগারদের

মুজিবুর রহমান, ই-কণ্ঠটোয়েন্টিফোর ডটকম : হারারেতে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টাইগাররা ৩ উইকেটে জয়ী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় বাংলাদেশের। এখন হোয়াইটওয়াশের করার পালা। আর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিতলেই জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা।

আর জিম্বাবুইয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে চায়। বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য।
প্রথম ওয়ানডেতে দাপটে সঙ্গে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টাইগাররা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়েকে উড়িয়ে দিয়েছে।
দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিল আল হাসান কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঠা-া মাথায় দলকে বের করে আনলেন, রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে শেষ ওভারে এনে দিলেন ৩ উইকেটের জয়।

সিরিজ জেতার ম্যাচে এবার দুর্দান্ত লড়াই হলো। সাকিব আল হাসান এই ম্যাচের নায়ক, ব্যাটে-বলে। প্রথমে বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৪২ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। পরে ব্যাট হাতে দলের চরম বিপদে খেললেন ৯৬ রানের হার না মানা ইনিংস।

সাকিব মাঠ ছাড়লেন বীরত্বের মতো । অলরাউন্ডার সাকিল আল হাসান এই ম্যাচের নায়ক, তবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও আলাদা প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখেন। অষ্টম উইকেটে যে সাকিবের সঙ্গে ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সঙ্গী ছিলেন তিনিই। ৩৪ বল খেলে এক বাউন্ডারিতে করেছেন ২৮ রান।

সাকিবের একটা আক্ষেপই থাকতে পারে, সেঞ্চুরিটা না পাওয়ার আক্ষেপ। তবে হাতে আসলে সময় ছিল না। শেষ দুই ওভারে ১২ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের, সেঞ্চুরি করতে সাকিবের ১০। শেষ বলে চার মারেন সাইফউদ্দিন।

আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইয়ের অনেক পরিসংখ্যান নাড়িয়ে দেয়া সুপারস্টার এবার দলকে জেতালেন ব্যাট হাতে। খেললেন অপরাজিত ৯৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। হারারেতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে স্বাগতিক জিম্বাবুইয়ে। জবাবে ৫ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ১০৯ বলে ৮ চারে ৯৬ রান করে অপরাজিত থাকেন সাকিব। ৩৪ বলে ১ চারে ২৮ রানে তার সঙ্গী হিসেবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেট জুটিতে ৬৪ বলে ৬৯ রানের মহামূল্যবান জুটি গড়েন এ দু’জন।

লক্ষ্য ২৪১, দারুণ কভার ও স্ট্রেইট ড্রাইভে চারটি বাউন্ডারি হাঁকানো তামিম ইকবালকে ফেরান লুক জংওয়ে। তবে তামিমের উইকেটের জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে পয়েন্টের ফিল্ডার সিকান্দার রাজাকে। লুক জংওয়ের লেন্থ বল ব্যাকফুটে গিয়ে পাঞ্চ করেছিলেন তামিম। পয়েন্টে থাকা রাজা চোখের পলকে নিজের বামদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দী করেন। ৩৪ বলে ২০ রান করে ফেরেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। পেসার রিচার্ড নাগারাবার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিড অনে ক্যাচ দেন লিটন। প্রথম ওয়ানডেতে ১০২ রান করা লিটন এবার করেন ২১ রান। এ জন্য ৩৩ বল খেলেছেন। বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ৪টি। ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫০। লুক জংওয়ের অফস্টাম্পের বাইরের বল চালাতে গিয়ে পয়েন্টে মাধবেরের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন মোহাম্মদ মিঠুন। প্রথম ম্যাচে ১৯ রান করা মিঠুন দ্বিতীয় ম্যাচেও হতাশ করেছেন।

৫০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ২৫ রানের জুটি গড়েছিলেন মোসাদ্দেক ও সাকিব। কিন্তু তাদের জুটি বড় হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যায়। নিজের ভুলে মোসাদ্দেক রান আউট হয়ে ফেরেন। রিচার্ড এনগাবারার বল যায় উইকেটরক্ষক চাকাভার হাতে। বল ঠিকমতো গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি চাকাভা। ওই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মোসাদ্দেক ১ রান নেয়ার জন্য ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকাভা দ্রুত রিকোভার করে সরাসরি থ্রোতে উইকেট ভাঙ্গেন। ৯ বলে ৫ রান করে মোসাদ্দেক ফেরেন সাজঘরে। ৭৫ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মাহমুদুল্লাহ ও সাকিব। কিন্তু পেসার মুজারাবানি বোলিংয়ে ফিরে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেন। তার নতুন স্পেলের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২৬ রান করা মাহমুদুল্লাহ। বাউন্সার বল কাট করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় চাকাভার হাতে। আর ডানহাতি অফস্পিনার মাদভেরের বল সুইপ করে সীমানার বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু মাঠের সবচেয়ে বড় দিক টার্গেট করে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। তার এলোমেলো শট সোজা যায় ডিয়োন মায়ার্সের হাতে। দলকে বিপদে ফেলে মিরাজ আউট হন ৬ রান করে। বাংলাদেশ হারায় ষষ্ঠ উইকেট।

৩৯তম ওভারে ১৫ রান করা আফিফ সাজঘরে ফিরলে ১৭৩ রানে সপ্তম উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর সাকিবের সঙ্গী হন সাইফুদ্দিন। এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া জিম্বাবুইয়ে টাইগারদের আটোসাটো বোলিংয়ের মুখে স্বচ্ছন্দ ছিলেন কেবল ওয়েসলে মাদভেরে। তরুণ ক্রিকেটার দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন। তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন একাদশে ফেরা সিকান্দার রাজা। ষষ্ঠ উইকেটে ৭০ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তারা। তাতে জিম্বাবুইয়ে শেষ ওভারগুলোতে কিছু রান তুলতে পারে। তবে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেন অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। ডানহাতি ব্যাটসম্যান বড় কিছু করতে ব্যাটিং পজিশনে তিন থেকে চারে নামেন। নিজের পরিকল্পনামতো ব্যাটিংও করছিলেন। কিন্তু ৪৬ রানে হিট উইকেটে শেষ তার ইনিংস। শ্যাডো প্র্যাকটিস করতে গিয়ে তার ব্যাট স্টাম্পে আঘাত করে। এছাড়া মিডল অর্ডারে ডিয়ন মায়ার্স ৩৪ ও সিকান্দার ৩০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে দলের স্কোর সমৃদ্ধ করেন। বল হাতে বাংলাদেশের সেরা শরিফুল ইসলাম। টেইলরের উইকেটে প্রাপ্তির খাতা খোলেন তিনি। এরপর শেষদিকে মাদভেরে, লুক জংউই ও মুজারাবানির উইকেট নেন। এর আগে তিনটি ওয়ানডে খেললেও কখনও ১ উইকেটের বেশি পাননি শরিফুল। এবার ৪৬ রানে তার শিকার ৪ জন। সাকিব নেন ৪২ রানে ২টি।

বিদেশে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ভাল নয়। সর্বশেষ সাফল্য সেই ২০১৮ সালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-১’এ ওয়ানডে জয়। এবারের আগে ২০১৩ সালে জিম্বাবুইয়ে সফরে ব্যর্থ বাংলাদেশ সেখানে ২০০৬-২০০৭ মৌসুমে ওয়ানডে জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে এবং ২০০৯ সালে ৪-১ ব্যবধানে। অবশেষে প্রায় একযুগ পর জিম্ববুইয়েতে এলো আরও একটি সিরিজ জয়ের গৌরব।
স্কোর : জিম্বাবুইয়ে : ২৪০/৯ (৫০ ওভার; কামুনহুকামউই ১, মারুমানি ১৩, চাকাভা ২৬, টেইলর ৪৬, মায়ার্স ৩৪, মাদভেরে ৫৬, রাজা ৩০, জংওয়ে ৮, মুজরাবানি ০, চাতারা ২*, এনগারাভা ০; শরিফুল ৪/৪৬, সাকিব ২/৪২, তাসকিন ১/৩৮, সাইফ ১/৫৪, মিরাজ ১/৩৪)।
বাংলাদেশ : ২৪২/৭ ( ওভার; তামিম ২০, লিটন ২১, সাকিব ৯৬*, মিথুন ২, মোসাদ্দেক ৫, মাহমুদুল্লাহ ২৬, মিরাজ ৬, আফিফ ১৫, সাউফুদ্দিন ২৮*)।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution