বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

রংপুরে মটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুর জেলা মটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এ কে এম মোজাম্মেল হক। সমিতির নির্বাচন বানচাল করতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকতেই সাবেক সভাপতি আবু আজগর পিন্টু পরিকল্পিতভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বুধবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় রংপুর নগরীর দক্ষিণ গুপ্তপাড়ায় জেলা মটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সমিতির সদস্যদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক দাবি করেন, তাকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্য থেকেই দুর্বৃত্তদের লেলিয়ে দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ করিয়েছেন সাবেক সভাপতি আবু আজগর। বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সমিতির অর্থ তছরুপ করেছেন সাবেক সভাপতি ও তার লোকেরা। এ নিয়ে আবু আজগরকে চিঠি দিয়ে তলব করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, আমি প্রতিদিন রাত আট থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে সমিতির কার্যালয়ে আসি। বুধবার দুর্বৃত্তরা আমার উপস্থিতির সময় অনুমান করে রাত পৌনে নয়টার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল ছুড়ে মারে। এগুলো বিস্ফোরিত হলেও কেউ হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিস্ফোরণের পর সমিতির সদস্যরা ধাওয়া করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ওই সময় আমি সমিতির কার্যালয়ের বাইরে থাকায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। এ ঘটনায় আমি আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রয়োজনে আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমিতির লাখ লাখ টাকা তছরুপের একাধিক অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে সমিতির তহবিল থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন, বিভিন্ন রুটে অবৈধভাবে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিয়ে গোপনে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চাঁদা উত্তোলন, সমিতি থেকে টাকা নিয়ে ব্যক্তিগত কর্মচারীর বেতন, ইন্টারনেট বিল প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করাসহ জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান মোজাম্মেল হক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক দফতর সম্পাদক মোসাহারুল আজম চৌধুরী, সাবেক প্রচার সম্পাদক মনোয়ারুর ইসলাম মনোয়ার, সাবেক সড়ক সম্পাদক সৈয়দ আফতাব উজ-জামাল লিপন, সদস্য মাহামুদুল হাসান মুরাদ, ফারহান জিহাদ প্রমুখ।

এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে সাজানো নাটক দাবি করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক সভাপতি আবু আজগর পিন্টু। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সভাপতি প্রার্থী মোজাম্মেল হক এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারবেন না জেনেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ককটেল বিস্ফোরণ, অর্থ তছরুপসহ যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই মিথ্যা।

পিন্টু বলেন, বিগত মেয়াদে কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন এ কে এম মোজাম্মেল হক। ওই মেয়াদে সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ থেকে শুরু করে সবকিছুই মোজাম্মেল হক দেখাশোনা করেছেন। অথচ এখন আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচনে ফায়দা খুঁজছেন। আমি কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করি নাই। মোজাম্মেল হক ফখরুদ্দিনের আমলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে জেলে নিয়েছিলেন। আমাকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরক জাতীয় কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রতি তিন বছর পরপর রংপুর জেলা মটর মালিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে কমিটির মেয়াদ শেষ হলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে আহ্বায়ক ও এ কে এম মোজাম্মেল হককে এক নম্বর সদস্য করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। করোনা মহামারির কারণে নির্বাচন আয়োজন শেষ করতে দেরি হচ্ছে। বর্তমানে সমিতিতে জেলার দুই শতাধিক সদস্য রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution