বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

মার্কিন তদন্তে খাশোগির হত্যাকারী সৌদি যুবরাজ?

অনলাইন ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪ জন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আজই (বৃহস্পতিবার) ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তিনি সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন। শুরু থেকেই হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হচ্ছে। অবশ্য যুবরাজ এই হত্যায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের তদন্তে তিনি অভিযুক্ত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি যুবরাজই খাশোগি হত্যার অনুমোদন দেন এবং হতে পারে তিনি সেটার নির্দেশও দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি ওই রিপোর্ট দেখেছেন। শিগগির তিনি এই বিষয় নিয়ে ৩৫ বছর বয়সী যুবরাজের বাবা সৌদি আরবের রাজা ৮৫ বছর বয়সী সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচার চলাকালেই বাইডেন অভিযোগ করেছিলেন, সৌদির যুবরাজের নির্দেশেই খাশোগি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পূর্বসূরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যেমনটা ছিল, বাইডেনের সময় ঠিক তেমনটা থাকছে না। এই সম্পর্কে পরিবর্তন আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। গত ২০ জানুয়ারি বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে এখনও কথা হয়নি তার।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জানান, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে সৌদি আরবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সমমর্যাদার ব্যক্তি দেশটির বাদশাহ সালমান। তার সঙ্গে যথাসময়ে বাইডেনের কথা হবে। তবে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করার কোনও পরিকল্পনা বাইডেনের নেই।

রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করার অংশ হিসেবে বাইডেনের নীতি অনুসারে এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের অধীনে চার বছরের সুসম্পর্কের পরে রিয়াদের সাথে সম্পর্কটিকে সনাতন ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন বাইডেন।

প্রথমদিকে সৌদি সরকার অস্বীকার করলেও, পরে সৌদির পক্ষ থেকে কনস্যুলেটের ভেতরে ধস্তাধস্তির সময়ে খাশোগি নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করা হয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন: যেহেতু আমার শাসনামলে এ ঘটনা ঘটেছে, তাই হত্যাকাণ্ডের দায় আমার। তবে এ হত্যাকাণ্ড তার অজান্তেই যে ঘটেছে সে কথাও উল্লেখ করেন যুবরাজ সালমান। এই হত্যার দায়ে পরে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে কারাদণ্ড দেয় সৌদি আরবের একটি আদালত।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution