শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

ভারতের কেরালাকে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল বসুন্ধরা কিংস

স্পোর্টস রিপোর্টার, ই-কণ্ঠ টোয়েন্টিফোর ডটকম ॥ কলকাতার বিকেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার ২৪ মে ভারতের ক্লাব গোকুলাম কেরালা এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল কিংস। কিংসের হয়ে গোল করেন রবসন রবিনহো ও নুহা মারং। বাঁ দিক দিয়ে বারবার আক্রমণ শাণিয়েও মিলছিল না সাফল্য।

হাল না ছেড়ে লেগে থাকলেন রবসন দি সিলভা রবিনিয়ো। সেই বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠেই উপহার দিলেন দৃষ্টিনন্দন গোল। নুহা মারোংয়ের গোলেও রাখলেন অবদান। গোকুলাম কেরালাকে হারিয়ে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল বসুন্ধরা কিংস।

মঙ্গলবার ২৪ মে রাতে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে গোকুলামকে ২-১ গোলে হারিয়েছে অস্কার ব্রুসনের দল। আই-লিগের দলটির হয়ে ব্যবধান কমান জর্ডেইন ফ্লেচার। এই জয়ে নিজেদের করণীয়টুকু সেরে রাখল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে কেরালার বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তাদের মতো বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে মাজিয়ারও। অথচ তাদের হাতেই কিংসের ভাগ্য ঝুলেছে!

৩৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ‘দ্য কিংস’ খ্যাত বসুন্ধরা। ব্রাজিল এই ফরোয়ার্ডের চমৎকার গোলে কেরালার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় কিংস। বক্সের কোনা থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে জাল খুঁজে নেন তিনি (১-০)।

পরের ধাপে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে শুরুর একাদশে তিন পরিবর্তন আনেন কিংস কোচ। কাজী তারিক রায়হান, মাশুক মিয়া জনি ও চিনেডু ম্যাথিউয়ের বদলে খেলেন মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদ ও মারোং।

পঞ্চদশ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া কিংসের সোহেল রানার জোরাল শট আটকান ডিফেন্ডার বোউবা আমিনৌ। ২৩ মিনিটে মিগেলে ফিগেইরা দামাশেনোর শট দুরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

৫৪ মিনিট রবিনহো-নুহা রসায়নে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। বাম প্রান্ত থেকে রবিনহোর মাপা ক্রস গোলমুখে লাফিয়ে উঠে হেডে জালে জড়ান নুহা মারং (২-০)। মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে গ্রুপ পর্ব শুরু করা কিংস নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে হেরে যায় ৪-০ ব্যবধানে। মোহনবাগানের বিপক্ষে ৪-২ গোলের চমক জাগানো জয়ের পর মাজিয়ার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল গোকুলাম। টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল তারা।

২৭তম মিনিটে গোলরক্ষক রাকশিত দাগারের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় গোকুলাম। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে রবিনিয়ো দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বুলেট গতির শট নেন, কোনোমতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল পাঠান রাকশিত। ৩৬তম মিনিটে কাঙিক্ষত গোল পায় কিংস। বাঁ দিক দিয়েই বক্সে ঢুকে পায়ের কারিকুরিতে বল বের করে একটু জায়গা করে নেন রবিনিয়ো। এরপর দারুণ বাঁকানো শটে দূরের পোস্টের উপরের কোণা দিয়ে খুঁজে নেন জাল।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের শুরুতে কিংসের ত্রাতা জিকো। ফ্লেচারের জোরাল ফ্রি কিক অনেকটা লাফিয়ে ওঠা জিকোর গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে। শেষের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে রবিনিয়োর নিচু শট গোলরক্ষক ফেরালে ব্যবধান বাড়েনি।

৫৪ মিনিট রবিনহো-নুহা রসায়নে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। বাম প্রান্ত থেকে রবিনহোর মাপা ক্রস গোলমুখে লাফিয়ে উঠে হেডে জালে জড়ান নুহা মারং (২-০)। মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে গ্রুপ পর্ব শুরু করা কিংস নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে হেরে যায় ৪-০ ব্যবধানে। মোহনবাগানের বিপক্ষে ৪-২ গোলের চমক জাগানো জয়ের পর মাজিয়ার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল গোকুলাম। টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল তারা।

৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ডি’র শীর্ষে আছে বসুন্ধরা কিংস। সমান ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে দ্বিতীয় স্থানে গোকুলাম। মাজিয়া ও মোহনবাগান ২টি করে ম্যাচ খেলে ১টি করে জয় ও হারে অর্জন করেছে ৩টি করে পয়েন্ট।

বসুন্ধরা কিংস ॥ আনিসুর রহমান জিকো, খালিদ শাফি, ইয়াসিন আরাফাত, বিশ্বনাথ ঘোষ, সোহেল রানা, মাহবুবুর রহমান সুফিল (মতিন মিয়া), বিপলু আহমেদ (মাসুক মিয়া জনি, ফাহাদ), রবসন রবিনহো, রিমন হোসেন, মিগুয়েল ফেরেইরা (ইব্রাহিম) ও নুহা মারং (সবুজ)।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution