বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ৩ জনসহ আটক ১০

বান্দরবান প্রতিনিধি:: বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি সহ পার্বত্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ৭ জন এবং পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ৩ জন সহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) রাতে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর (শুক্রবার) বান্দরবান কার্যালয়ে র‌্যাবের পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র শীর্ষ নেতাদের ধরতে পাহাড়ে অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে গ্রেপ্তার হয় জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ১০ সদস্য। সম্প্রতি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নতুন করে কথিত হিজরতের নামে ঘরছাড়া তরুণরা জামাতুল আনসারের হয়ে পাহাড়ি এলাকার আস্তানায় আশ্রয় নেয়। এসব আস্তানায় হিজরত করা তরুণদের ভারি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা জানতে পারি যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া তরুণের সংখ্যা ৫০ এর অধিক। ৩৮ জনের নাম ঠিকানা আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিকট উপস্থাপন করেছি সদস্যরা প্রায় দেড় মাস থেকে দুই বছরের অধিক সময় ধরে নিরুদ্দেশ বা নিখোঁজ ছিল বলে জানা যায়। এদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবার জানতেন যে তারা চাকরির জন্য বিদেশে অবস্থান করছে এবং বিভিন্ন সময় পরিবারের নিকট অর্থ প্রদান করত। আরও জানা যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের, সবচেয়ে দুর্গম অঞ্চলে আত্মগোপনে আছে, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। বিভিন্ন নাশকতা ও সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা সহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে টানা অভিযান চালিয়ে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সাত জন এবং পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের তিন জনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এসময় তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, বিগত কয়েক দিন যাবত বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির সাইজামপাড়া ও বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাজার এলাকায় র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার নেতৃত্বে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সৈয়দ মারুফ আহমেদ মানিক(৩১),ইমরান হোসেন শাওন (৩১), কাউসার শিশির(৪৬), জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জনু(২৭), মোঃ ইব্রাহিম আলী(১৯), আবু বক্কর সিদ্দিক বাপ্পি(২৩), রুকু মিয়া(২৬), জৌথান স্যাং বম(১৯), স্টিফেন বম১৯), মাল সম বম (২০)। অভিযানে উদ্ধার করা হয় এস বিবিএল বন্দুক ৯টি, এসবিবিএল বন্দুকের গুলি ৫০ রাউন্ড, কার্তুজ কেইজ ৬২টি, হাতবোমা ৬টি কার্টুন স্কেচ ১টি, দেশীয় পিস্তল ১টি, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ১টি, কুকি চিন ম্যাপ লিখা ১০টি মানচিত্র ও অন্যান্য ব্যবহার্য সরঞ্জামাদি।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামক উগ্রবাদী সংগঠনে জড়িত হয়ে তারা দেড় মাস হতে দুই বছরের বেশি সময় ধরে পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন হয়, নিকটাত্মীয়, কেউ বন্ধু, কেউ স্থানীয় ব্যাক্তি পরিচিতজনদের মাধ্যমে উগ্রবাদী এ সংগঠনে যুক্ত হয়। জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে কথিত হিজরতের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধাপের কর্মকেন্দ্রিক স্তর অতিক্রম করে উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে নিখোঁজ হওয়া যুবকরা প্রশিক্ষণের জন্য আসে বলে জানা যায়। সংগঠনের সদস্যরা তাদেরকে উগ্রবাদী উৎসাহিত করে পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন এলাকায় সামরিক প্রশিক্ষণ ও তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদানের জন্য পটুয়াখালী ভোলা সহ বিভিন্ন এলাকায় জ্যেষ্ঠ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সেইফ হাউজে রাখত। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ তরুণদেরকে বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় পরবর্তী ধাপের প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হত। বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আখ্যা আগ্নেয়াস্ত্র চালানো, বিভিন্ন ধরনের বোমা তৈরি, চোরাগুপ্তা হামলা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার বিভিন্ন কৌশল সহ বিভিন্ন ধরনের তাত্ত্বিক জ্ঞান বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হতো। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ আরও জানা যায় পার্বত্য অঞ্চলের প্রশিক্ষণ শিবিরে মোট পরীক্ষার্থী ৫০ এর অধিক। জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া সংঘটনটির আমির মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মাহমুদ নামক ব্যক্তি যার নেতৃত্বে উগ্রবাদী সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে।এছাড়াও উগ্রবাদী এই সংগঠনের ছয়জন সুরা সদস্য রয়েছে যারা দাওয়াতি,সামরিক, অর্থ, মিডিয়া উপদেষ্টা দায়িত্বে রয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের গ্রেফতারকৃত তিন জন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা কেএনএফ(কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) এর সামরিক শাখা কেএনএফ এর সদস্য। জানা যায়, কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামক সশস্ত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নাথাং বম এর সাথে ২০২১ সালে জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া এর আমীর এর সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং পার্বত্য অঞ্চলের কে এনএনএফ এর ছত্রছায়ায় জামাতুল আনসার এর সদস্যদের আগামী ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে তিন লক্ষ টাকা এবং কেএনএফ এর সকল সদস্যদের খাবার খরচ বহন করা হত।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযান আগামীতেও বহাল থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution