মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

নেপালের বিপক্ষে ‘ড্র’ করে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

মুজিবুর রহমান বাবু, ই-কণ্ঠ টোয়েন্টিফোর ডটকম : মালদ্বীপের হাইভোল্টেজ মহারণে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও নেপাল। অনেকেরই চোখ ছিল এই ম্যাচের দিকে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশের শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ। সব চুরমার হয়ে গেল দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেখে আসা সেই স্বপ্নের। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ড্র করেও যেন ‘হেরে’ গেল লাল-সবুজ বাহিনী।

নেপাল উঠে গেছে ফাইনালে। ১৩ অক্টোবর বুধবার সেমিফাইনালে নেপালে বিরুদ্ধে খেলতে নামে জামাল ভুঁইয়ারা। নেপালের বিপক্ষে লিগপর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে অষ্টম মিনিটে প্রথম সুযোগইে হেডে বল জালে পাঠিয়েছে সাত নম্বর জার্সিধারী সুমন রেজা। ডি বক্সের বাঁ দিক থেকে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিক প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে চলে আসে সুমন রেজার সামনে। তার ওই গোলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।
খালি জায়গায় থাকা ফরোয়ার্ড সুমন নিখুঁত হেডারে জালের ঠিকানা খুঁজে নিতে ভুল করেননি। বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একটি শট নিয়ে সেটিতেই গোল আদায় করে নিয়েছে লাল সবুজ জার্সিধারীরা।
মালদ্বীপের রাজধানী মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে বুধবার ১-১ গোলে ড্র হয়ে গেলো বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচটি।

চারটি পরিবর্তন এনে নেপাল ম্যাচের সেরা একাদশ সাজান ব্রুজোন। কার্ডের কারণে দলে নেই ইয়াসিন আরফাত। রহমত মিয়া, সোহেল রানা, মতিন মিয়ার জয়গা হয়নি। তাদের বদলে টুটুল হোসেন বাদশা, বিশ্বনাথ ঘোষ, রাকিব হোসেন, সুমন রেজাকে খেলান কোচ।

সাফের চলতি আসরে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ফরোয়ার্ড গোল পেলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে ডিফেন্ডার তপু বর্মন এবং শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে আরেক ডিফেন্ডার ইয়াসিন লক্ষ্যভেদ করেছিলেন।

একটু পর সাদউদ্দিনের শট বাইরে যায়। ২৩তম মিনিটে অঞ্জন বিস্তার ফ্রি কিক অনেকটা লাফিয়ে ফিস্ট করে আটকান আনিসুর রহমান জিকো। দুই মিনিট পর বক্সের ডান দিক দিয়ে অরক্ষিত ফরোয়ার্ড সাদউদ্দিন তাড়াহুড়ো করে শট নেন। বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়।

বিপদ বুঝে নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে ডি-বক্সের বাইরে সামনে এগিয়ে আসেন জিকো। চেষ্টা করেন বিষ্টাকে বিট করতে। কিন্তু বিস্টার শট জিকোর হাতে লেগে যায়, তাছাড়া জিকোর সঙ্গে সংঘর্ষে বিস্টা মাটিতে পড়েও যান। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে জিকোকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন। স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ। কোচ অস্কার ব্রুজোন বাধ্য হয়ে মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদকে উঠিয়ে অপর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে নামান। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতত, তাহলে জিকোর এই আত্মত্যাগ সার্থক হতো। কেননা ওই অবস্থায় বক্সের বাইরে হাতে বল লাগিয়ে তার কোন উপায় ছিল না। ম্যাচের তখন ৭৯ মিনিট। ওই ঘটনায় নেপাল ফ্রি কিক পেলেও গোল করেনি। কিন্তু পরে গোল করে এমনভাবে, সেটি যে গোল হবে, তা যেন ভাবনার অতীত ছিল। ম্যাচের যখন ৮৮ মিনিট। তেজ তামায় ডান প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের বক্সের ভেতরে উঁচু লব ফেলেন। সেই বলে হেড করতে যান অঞ্জন বিস্টা।

তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন সাদ উদ্দিন। রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে তিনি অঞ্জনকে কোন ফাউলই করেননি। কিন্ত খামোখাই অভিনয় করে অঞ্জন মাটিতে পড়ে যান। তার অভিনয়ে রেফারি মুগ্ধ হয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে দেন। তা থেকে সেই অঞ্জনই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান (১-১)। যদিও রেফারির সিদ্ধান্তটি ছিল বিতর্কিত।

 


এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোল করে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত থেকে জামাল ভুইয়ার ফ্রি কিকে বক্সের মধ্যে থেকে দারুণ হেডে জালে জড়িয়ে দেন সুমন রেজা (১-০)।
২০১৮ সালে ঢাকা সাফে সেমিফাইনালে খেলার জন্য এমন সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল। তখন নেপালের প্রয়োজন ছিল জয় আর বাংলাদেশের ড্র। বাংলাদেশ সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে গিয়েছিল।
মালদ্বীপ ম্যাচে কার্ডের জন্য ছিলেন না উইঙ্গার রাকিব হোসেন ও ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। তারা দুজনই এই ম্যাচে ফেরেন। দুই কার্ডের জন্য এই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাত।
সাফের সর্বশেষ তিন ম্যাচে (২০১১, ২০১৩ ও ২০১৮) বাংলাদেশ নেপালের বিপক্ষে হেরেছিল। এবারের ড্রটাও যেন হারের সমতুল্যই। শেষ মুহূর্তে হৃদয় ভাঙল বাংলাদেশের।

১৬ অক্টোবেরর ফাইনাল খেলতে হলে জিততেই হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু এই ড্রয়ে চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড রবিন লিগ থেকে ছিটকে গেল অস্কার ব্রুজোনের দল। ৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে উঠল নেপাল।

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution