বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

তায়কোয়ান্দোতে মাইনু মারমার স্বর্ণপদক জয়

মুজিবুর রহমান , ই-কণ্ঠ ২৪ ডটকম : বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ৭ এপ্রিল বুধবার সিনিয়র মহিলা (মাইনাস ৫৭ কেজি) ইভেন্টের ফাইনালে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মাইনু মারমা। মাইনু মারমা দাপটের সঙ্গে খেলে ২৫-২ স্কোরে হারান চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার জান্নাতুল তামান্না তাবাসসুমকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মার্জিয়া আক্তার ও রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাইকা ইসলাম সাফা ব্র্র্র্রোঞ্জপদক লাভ করেন। ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে স্বর্ণ নিগার সুলতানার। মাইনু মারমা দুটি ভিন্ন খেলায় তিনি অংশ নিয়েছেন সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে।
আগেরদিন মাইনু স্বর্ণ জিতেছিলেন সিনিয়র মহিলা দলীয় (২৪-২৯ বছর) ইভেন্টেও। শ্রাবণী বিশ্বাস এবং শাহানা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে ৬.৯০ স্কোর করেন তিনি। ৬.৮০ স্কোর করে এই ইভেন্টে রৌপ্য জেতেন সেনাবাহিনীর সুমনা মুন্নী, সাথী খাতুন এবং শ্যামলী খাতুন। তাম্র জেতেন রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্ণালী চৌধুরী, সুলতানা, মিলি আক্তার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার মরিয়ম হাসনাত, নাসরিন জাহান ইসরাত জাহান আসমানী। বুধবার স্বর্ণজয়ের পর মাইনু বলেন, ‘খুবই খুশি লাগছে। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ছিল সাফল্যের ব্যাপারে।’

এই সেই মাইনু মারমা, যাকে বাংলাদেশের সবাই জানে একজন কুশলী ফুটবলার হিসেবে। কিন্তু তিনি যে তায়কোয়ান্দোও খেলেন, সেটা অনেকেরই অজানা। এ ব্যাপারে মাইনুও বেশ প্রচারবিমুখ। এজন্যই তায়কোয়ান্দো খেলে কখনই সেভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পারেননি।

২০০৬ সাল থেকেই তায়কোয়ান্দো খেলছেন মাইনু। তখন থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেই একটি করে স্বর্ণ জিতেছেন। এবারই প্রথম বাংলাদেশ গেমস খেললেন। এবং সোনা জিতলেন দুটি। সেই হিসেবে সব মিলিয়ে তার মোট স্বর্ণসংখ্যা ১৮টি।
তায়কোয়ান্দোকা হিসেবে ২০১৩ বাংলাদেশ গেমস খেলার কথা ছিল, কিন্তু তখন জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে থাকায় গেমস খেলার অনুমতি পাননি মাইনু। একই অবস্থা হয়েছিল ২০১০ সালের ঢাকা এসএ গেমসেও।

২০১০ ও ২০১৬ এসএ গেমসে অংশ ফুটবলার হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন মাইনু। প্রতিবারই জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ। ২০০৬ আসরে খেলেন তায়কোয়ান্দোকা হিসেবে। এই আসরে অবশ্য অংশ নিতে পারতেন না, যদি না জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়তেন!
রাঙ্গামাটির মেয়ে ২৭ বছর বয়সী মাইনুর। অথচ শুনলে অবাক হবেন তায়কোয়ান্দো খেললেও এবং এই খেলাতেই বেশি সাফল্য পেলেও নিজেকে ফুটবলার হিসেবে পরিচয় দিতেই গর্ব অনুভব করেন তিনি, ‘ফুটবলার হিসেবেই আমি বেশি প্রচার ও জনপ্রিয়তা পেয়েছি। তায়কোয়ান্দোর আগেই ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম।’

নারীদের ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীর ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিগার সুলতানা ২০-১১ স্কোরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির প্রভা চাকমাকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ইসরাত জাহান রিয়া ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উম্মে কুলসুম তুলি। ৪৯ কেজি ওজন শ্রেণীতে সুলতানার স্বর্ণ।

নারীদের ৪৯ কেজি ওজন শ্রেণীর ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাতুল সুলতানা ২১-১১ স্কোরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির লুবনা আক্তারকে হারিয়ে সোনার পদক জিতেছেন। এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার ইভা খাতুন ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার জিং রাম কিম বম। ৪৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে মুন্নিার সোনার হাসি ৪৬ কেজি ওজন শ্রেণীর ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুমনা মুন্নি ২০-০৮ স্কোরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির বিনোতি চাকমাকে হারিয়ে স্বর্ণ পদক জেতেন। সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার তুহিন খাতুন এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার মারিয়া জান্নাত ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। ৭৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে আরজোমার স্বর্ণ।
নারীদের ৭৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির আরজোমা আক্তার রোমা ০৮-০৪ স্কোরে কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফাতেমা খাতুনকে হারিয়ে স্বর্ণ পদক জিতেছেন। বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার মিলিনিয়ামপার এবং কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার রাহিমা ইসলাম রিপা ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।
পুরুষ (৫৪ কেজি) ওজন শ্রেণীতে ইমনের স্বর্ণ।
সিনিয়র পুরুষ (ফাইট) ৫৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইমন হাসান ২৯-২৫ স্কোরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সবুজ শেখকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সাইফুল রহমান এবং বাংলাদেশ পুলিরেশর মেহেদি আল সোহান ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।
পুরুষ (৫৮ কেজি) ওজন শ্রেণীতে পারভেজের স্বর্ণ
পুরুষ সিনিয়র (ফাইট) ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পারভেজ মোশররফ ২৯-২৭ স্কোরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মো ঃ ইলিয়াস হোসেনকে হারিয়ে সোনার পদক জিতেছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের আরাফাত হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের রিদোয়ান আহমেদ জিতেছেন ব্রোঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution