বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

জিয়ার খেতাব বাতিলের পেছনে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’: বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাবেক সামরিক শাসক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘বীরোত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বুধবার টেলিফোনে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) খেতাবটি বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটাকে আমি মনে করি, সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। এই সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছে, তাদেরকে আমি কখনোই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনে করি না।

“তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং পুরোপুরিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কলঙ্ক লেপন করা হল। আমি এহেন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

‘সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের’ কারণ দেখিয়ে জামুকা জিয়াউর রহমানের এই খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে জামুকার সভায় জিয়া ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নুর চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের অপকর্ম’ এবং বেরিয়ে আসা ‘সমস্ত দুর্নীতি’ থেকে জনগণের দৃষ্টি দূরে সরিয়ে নিতেই এটা করা হয়েছে।

জিয়া যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফখরুল বলেন, “এই সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষদের শুধু নয়, বাইরের বহু লেখকের বহু লেখা আছে, যার প্রমাণ রয়েছে। এই যে বীরোত্তম খেতাবটি তিনি পেয়েছিলেন, সেই খেতাবটি পেয়েছিলেন কিন্তু স্বাধীনতার পরের যে সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের যে সরকার, সেই সরকারই এই খেতাব তাকে দিয়েছিল।”

চিকিৎসার জন্য গত ৩০ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরে যান বিএনপি মহাসচিব। স্ত্রী রাহাত আরা বেগমও তার সঙ্গে আছেন।

ফখরুল জানান, সেখানে ফারার পার্ক হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে আছেন তিনি। এটা শেষ হলে আবার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হবে।”

২০১৫ সালে কারাবন্দি অবস্থায় ঘাড়ের আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়লে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী ফখরুল। ফলোআপ করাতে প্রতিবছরই তাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়।

জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘সরকারের কুটিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে বর্ণনা করে এর নিন্দা জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি শহীদ জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র ঘৃণা জানাচ্ছি, নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এ ধরনের কুটিল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।”

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পদক আাবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution