মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

কঠিন লড়াইয়ে টি ২০ সিরিজও জিতল টাইগাররা

মুজিবুর রহমান বাবু, ই-কণ্ঠটোয়েন্টিফোর ডটকম : জিম্বাবুইয়ে বাংলাদেশকে ১৯৪ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়। হারারেতে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররাই। ১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে পেরিয়ে গেছে ৫ উইকেট আর ৪ বল হাতে রেখে। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানে।

টাইগাররা শেষ পর্যন্ত টি২০ ক্রিকেটে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বাধিক ১৯৪ রান তাড়া করে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে। রবিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে জয়টি এসেছে ৪ বল বাকি থাকতেই।

১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৪ রান তুলে জয় পায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাধিক ১৬৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল, এবার সেটিকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ মূলত সৌম্য সরকারের ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফর্মেন্সে। বল হাতে তিনি ১৯ রানে ২ উইকেট নিলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ পায় জিম্বাবুইয়ে। পরে সৌম্য ৪৯ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় পেতে দারুণ ভূমিকা রাখেন।

সিরিজে দুই ফিফটিসহ বল হাতে দারুণ নৈপুণ্যে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন সৌম্য। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে শেষ হয়েছে জিম্বাবুইয়ে সফর। একমাত্র টেস্ট জয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুইয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এবার জিতল টি ২০ সিরিজও।

প্রথম দুই ম্যাচেও টস জিততে পারেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তৃতীয় টি২০তেও পারলেন না। টস জিতে আবারও ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন জিম্বাবুইয়ের দুই ওপেনার ওয়েসলি মাধেভেরে ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৬৩ রান তোলেন তারা। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মারুমানিকে বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিনি ২০ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ২৭ রান করেছিলেন। কিন্তু এরপর আরও তা-ব শুরু করে স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৩১ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়েন মাধেভেরে ও রেজিস চাকাবভা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদকে টানা ৫ চার হাঁকিয়ে ২০ রান তুলে নেন মাধেভেরে। প্রথম ওভারেও ৮ রান দেয়া তাসকিন আর পরে বোলিং করেননি। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও তৃতীয় ওভারে ১৩ রান দিয়েছিলেন। সবচেয়ে অগোছালো ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ, তিনি ১১তম ওভারে টানা ৩ বলে ছক্কা হজম করেন চাকাবভার কাছে।

ভয়ানক বিধ্বংসী চাকাবভাকে ১২তম ওভারের প্রথম বলে সৌম্য সরকার সৌভাগ্যক্রমে সাজঘরে ফেরান। প্রায় ছক্কা হয়ে যাওয়া বলটি শূন্যে ভেসে নাইম শেখ পেছনে ছুঁড়ে দিলে তা লুফে নেন শামীম হোসেন। ২২ বলে ৬ ছক্কায় ৪৮ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে বিদায় নেন চাকাবভা। ওই ওভারেই সৌম্য বোল্ড করে দেন সিকান্দার রাজাকে (০)। সৌম্য ১২তম ওভারে ৪ রানে ২ উইকেট ও ১৪তম ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।

এছাড়া ফিরে এসে নাসুম ১৩তম ওভারে ৬ এবং শরিফুল ১৫তম ওভারে ৭, সাকিব ১৬তম ওভারে মাত্র ৩ রান দেন। ফলে নিজেদের টি২০ সংগ্রহের রেকর্ড আর গড়তে পারেনি জিম্বাবুইয়ে। শেষ ৬ ওভারে তারা এরপরও ৫৪ রান তোলে সাইফউদ্দিন শেষ ওভারে ১৬ এবং ১৮তম ওভারে ১৯ রান দেয়াতে। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পেয়েছে নিজেদের সর্বোচ্চ ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ।

বোলারদের ব্যর্থতার ভিড়ে অনিয়মিত পেসার সৌম্য ৩ ওভারে ১৯ রানে নেন ২ উইকেট। অবশ্য সাকিবও ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। রায়ান বার্ল ১৫ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

আর মাধেভেরে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক হাঁকান। তিনি ৩৬ বলে ৬ চারে ৫৪ রানে বিদায় নেন সাকিব আল হাসানের বলে। সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৫০ রান দিয়ে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বাজে বোলিংয়ের নজির দেখান। এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়েছিলেন মিরপুরে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সর্বাধিক ১৬৪ রান তাড়া করে ২০১৬ সালে খুলনায় জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটি টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা রান তাড়া। আর সর্বাধিক ২১৫ রান তাড়া করে কলম্বোয় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালে ৫ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা। এবার লক্ষ্যটা ১৯৪ অর্থাৎ দ্বিতীয় সর্বাধিক রান তাড়া করার রেকর্ড গড়তে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় ওভারেই নাইম (৩) ক্যাচ তুলে দিয়ে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তিন নম্বরে ফিরে সাকিব আল হাসান দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু ১৩ বলে ১ চার, ২ ছক্কায় ২৫ রান করে তিনিও ক্যাচ তুলে দিয়ে লুক জংওয়ের শিকার হন।

সাকিব ফেরেন দ্বিতীয় উইকেটে ৩২ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে। অন্যপ্রান্তে সৌম্য দুর্দান্ত খেলছিলেন। তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে ৪১ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান তিনি। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি পান ৪০ বলে। এরপর ৪৯ বলে ৯ চার, ১ ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ৬৮ রানে সাজঘরে ফেরেন।

তখনও ৩৯ বলে ৬১ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ১৪তম ওভারে মাহমুদুল্লাহকে মাত্র ২ রান দেন মুজারাবানি। জয়ের জন্য তখন ৩০ বলে ৫২ রানের প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের। পরে মাহমুদুল্লাহ ২৮ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ৩৪ রান করে দলকে জয় থেকে ৭ রান দূরে রেখে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। আর আফিফ হোসেন ধ্রুব ৫ বলে ২ ছক্কায় ১৪ রানে সাজঘরে ফিরলেও পরে শামীম ঝড় তুলেছেন। তিনি ১৫ বলে ৬ চারে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

স্কোর : জিম্বাবুইয়ে ইনিংস- ১৯৩/৫; ২০ ওভার (মাধেভেরে ৫৪, চাকাবভা ৪৮, বার্ল ৩১*, মারুমানি ২৭; সৌম্য ২/১৯, সাকিব ১/২৪)।

বাংলাদেশ ইনিংস- ১৯৪/৫; ১৯.২ ওভার (সৌম্য ৬৮, মাহমুদুল্লাহ ৩৪, শামীম ৩১*, সাকিব ২৫; মুজারাবানি ২/২৭, জংওয়ে ২/৪২)।

ফল ॥ বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)।

সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
সিরিজসেরা : সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution