শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:১৪ অপরাহ্ন

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টাইগাররা সহজেই জিতল দ্বিতীয় ওয়ানডে

মুজিবুর রহমান, ই-কণ্ঠ ২৪ ডটকম : মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২২ জানুয়ারি শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। দীর্ঘ ১০ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে ছিল বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের জন্য। অনেকদিন পর ক্রিকেট খেলতে নামার পর জড়তা কাজ করেছে। দশমাস পরে ফিরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে হারিয়ে দিল, তিন ওয়ানডের মধ্যে প্রথম ওয়ানডে জিতেছে ও দ্বিতীয় ওয়ানডে খুব সহজেই জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ টাইগারদের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমানদের দারুণ লাইন-লেংথের সামনে খুব একটা লড়াই করতে পারল না। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তারা গুটিয়ে গেল ১৫০ নিচে। অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফিফটিতে অতি সহজেই সেই রান পেরিয়ে সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা।
বাংলাদেশ ৪৩ ওভার ৪ বলে ১৪৮ রানে গুটিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ১০০ বল বাকি থাকতে দাপটে সঙ্গে ৭ উইকেটে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এটি তাদের টানা সপ্তম জয়। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট হলো ২০। তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ২-০ ব্যবধানে বাংলাদেশ দল। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা তিন সিরিজ জিতল তারা। তবে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলাররাই যেন প্রথম ওয়ানডের চেয়েও ব্যাট হাতে বেশি দৃঢ়তা দেখিয়েছেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে।
২৫ জানুয়ারি সোমবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে, শেষ ম্যাচটি জিততে পারলে বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করবে।
৮৮ রানে যখন ৮ উইকেট পড়ে যায়, এরপর নবম উইকেটে রোভম্যান পাওয়েল ও পেসার আলজারি জোসেফ মিলে ৩২ রানের ও দশম উইকেটে পাওয়েল ও স্পিনার আকিল হোসেন মিলে ২৮ রানের জুটি গড়েন। তাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৮ রানে চলে যায়। ৪৩.৪ ওভারে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪, সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। তবে খানিক চ্যালেঞ্জ যেন ছুড়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৮ হাফসেঞ্চুরি করা তামিম ইকবাল ৫০ রানের ইনিংস খেলে সেই চ্যালেঞ্জ জয় করার পথে দলকে নিয়ে যান। সাকিব আল হাসান অপরাজিত ৪৩ ও মুশফিকুর রহীম অপরাজিত ৯ রান করে দুইজন মিলে ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৩.২ ওভারে ১৪৯ রান করে জিতে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে।
মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ভুগছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ম্যাচে শেষ করে আসতে পারেননি কাজ। এবার তার ব্যাটে দেখা গেল ছন্দে ফেরার আভাস।
চারটি চারে ৫০ বলে ৪৩ রান করেন সাকিব। মুশফিক ২৫ বলে ৯।
সকাল থেকে রোদ পায় উইকেট। তাই আগের দিনের মতো অতোটা ধরেনি স্পিন। এরপরও তা যেন দুর্বোধ্যই হয়ে রইলো সুনিল আমব্রিস-কেয়র্ন ওটলিদের কাছে।
টসে জিতে মোহাম্মেদের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত ছিল বেশ অবাক করা। তামিম ইকবাল জানান, আগের ম্যাচের মতো এবারও ফিল্ডিংই নিতেন তিনি। যে ভাবনা থেকে আগে বোলিং নিতে চাওয়া, তা পূরণ করেন মুস্তাফিজ-মিরাজ-সাকিবরা।
সাকিব আল হাসান প্রথম ওয়ানডেতে ৪টি উইকেট নিয়েছিল। হাসান মাহমুদ ৩ ও মুস্তাফিজুর রহমান ২ উইকেট শিকার করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছিলেন ১ উইকেট। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঝলক দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন।
দলের অনেক ক্রিকেটারই সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আর্থিক জটিলতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া সিরিজ খেলেননি। এবার করোনাভাইরাসের প্রভাবের ভয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটাররা।
বাংলাদেশের ওয়ানডের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ছিলেন অধিনায়ক। মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়লে সাকিবের কাঁধে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বর্তায়। সাকিব সিরিজ জেতার সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে দেশেও ফেরেন। এবার তামিম আগে থেকেই অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন। ১০ মাস আগেই তামিমকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ এর জন্য এতদিন নেতৃত্ব দেয়া হয়নি। যখন অধিনায়কত্ব করলেন তখন সিরিজ জয় করে রেকর্ড গড়ে ফেললেন। দাপট দেখিয়েই ম্যাচ ও সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
আগামী ২৫ জানুয়ারি সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য মাঠে নামবে তামিমের দল।

স্কোর : ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ (আমব্রিস ৬, ওটলি ২৪, জশুয়া ৫, ম্যাককার্থি ৩, জেসন ১১, মেয়ার্স ০, বনার ২০, পাওয়েল ৪১, রিফার ২, জোসেফ ১৭, আকিল ১২*; মুস্তাফিজ ৮-৩-১৫-২, রুবেল ৭-০-২৩-০, হাসান ৯-০-৫৪-১, মিরাজ ৯.৪-০-২৫-৪, সাকিব ১০-০-৩০-২)।
টাইগাররা : ৩৩.২ ওভারে ১৪৯/৩ (লিটন ২২, তামিম ৫০, শান্ত ১৭, সাকিব ৪৩*, মুশফিক ৯*; জোসেফ ১০-০-৪২-০, মেয়ার্স ২-০-১৫-০, আকিল ৯.২-০-৪৫-১, জেসন ৭-০-২৯-১, রিফার ৫-০-১৮-১)।
ফল : টাইগাররা ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান মিরাজ
সিরিজ : তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ তে এগিয়ে

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution