বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে মেলামাইন-প্লাস্টিক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে তিনটি ইটভাটায় কয়লা ও কাঠের সঙ্গে মেলামাইন, প্লাস্টিক এবং বোতাম পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে মো. বজলার রহমানের মালিকানাধীন মেসার্স রুপালী হাওয়া ব্রিকস, মেসার্স রুপালী-১ হাওয়া ব্রিকস ও মেসার্স রুপালী-২ হাওয়া ব্রিকসে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্লাস্টিক ও বোতাম পোড়ানোর সময় ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ভাটার আশপাশের এলাকায়। কৃষি জমিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

ইটভাটায় কাঠের সঙ্গে মেলামাইন, প্লাস্টিক ও বোতাম পোড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন শ্রমিকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে কয়লায় দাম দ্বিগুণ। তাই বাধ্য হয়েই প্রায় সব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটায় পোড়ানো মেলামাইনের টুকরো, প্লাস্টিক দ্রব্য ও বোতামের দাম কম। তাই কাঠ ও কয়লার সঙ্গে মিশিয়ে পোড়ানো হচ্ছে এসব।

তরিকুল ইসলাম নামে একজন শ্রমিক জানান, কয়লার সঙ্গে এসব মিশিয়ে পোড়ানো হলে ইটের গায়ের রং ভালো হয়। তাতে ক্রেতা সন্তুষ্টি বাড়ে এবং বিক্রিও বেশি হয়। এমনকি এসব প্লাস্টিক দ্রব্য, মেলামাইন ও বোতাম দীর্ঘ সময় ধরে আগুনে পোড়ে। এসব জিনিস কয়লার প্রায় অর্ধেক ১২-১৩ হাজার টাকা টন হিসেবে কেনা যায়।

স্থানীয় আমচাষি মো. আলামিন বলেন, গত কয়েক দিন থেকে ইটভাটায় কী পোড়ানো হচ্ছে, আল্লাহই ভালো জানেন। প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। পরে শুনেছি, কয়লার সঙ্গে প্লাস্টিক ও মেলামাইন পোড়াচ্ছে তারা। এমনিতেই কাঠের ধোঁয়ার কারণে আম নষ্ট হয়ে যায়, আকারে আম বড় হয় না, তার ওপর এসব ধোঁয়া আরও বেশি ক্ষতি করবে।

আম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ভাটা মালিকরা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ইটভাটায় এসব পুড়িয়ে ইট তৈরি করছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ফসলের বিষয়ে উদাসীন। আমাদের কি ক্ষতি হলো, কেমন বিপদে পড়লাম এসব ভাবার সময় নেই। স্থানীয় প্রশাসনও এসব অবৈধ কাজের জন্য কেনো ব্যবস্থা নেয় না।

ইটভাটার ম্যানেজার তোজাম্মেল হক বলেন, কয়লার দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২৪ হাজার টাকা টন করে বিক্রি হচ্ছে কয়লা। তাই বাধ্য হয়েই আমরা গত ১৫ দিন থেকে কাঠ পোড়াচ্ছি। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা এসব প্লাস্টিক দ্রব্য (৯-১০ টন) এনেছিলাম। এখনও কিছু মিশ্রণ পড়ে আছে।

প্লাস্টিক দ্রব্য ও বোতাম পোড়ানোর কথা স্বীকার করেন মেসার্স রুপালী হাওয়া ব্রিকস, মেসার্স রুপালী-১ হাওয়া ব্রিকস ও মেসার্স রুপালী-২ হাওয়া ব্রিকসের মালিক বজলার রহমান। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েক টন নিয়ে আসার পর ফলাফল ভালো না হওয়ায় এখন এসব পোড়ানো বন্ধ আছে। তবে এতে দুর্গন্ধ ছড়ায় না। এমনকি ফসল বা পরিবেশের জন্যও এসব পোড়ানো ক্ষতিকর নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, স্বাভাবিক ইটভাটার ধোঁয়া গাছপালা ও ফসলের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। তবে প্লাস্টিক দ্রব্য, মেলামাইন ও বোতামের ধোঁয়া আরও ক্ষতিকর। ইটভাটার আশপাশে থাকা আম ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে এসব ধোঁয়ায়। বিশেষ করে আমের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হবে না এবং ফলন ঝরে পড়বে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব-আল-রাব্বী মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেয়। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution